পটুয়াখালী সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ হত্যায় আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী। গত ২২ জুলাই শহিদুলকে একমাত্র আসামি করে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন ওই নারী। বিচারক পরে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার গ্রহণ ও আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
বুধবার (২৮ জুলাই) মামলার কপি পটুয়াখালী সদর থানায় পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মনিরুজ্জামান ওসি। এক সপ্তাহ আগে মামলা হলেও গতকাল বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর গা-ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত শহিদুল।
শহিদুল সদর উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামে। আর ভুক্তভোগী নারীর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর গত ২৪ মার্চ বোন দেখবে বলে ভুক্তভোগীকে জেলা শহরে ডেকে নেন শহিদুল। সেখানে তাঁকে আটকে ধর্ষণ করেন শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই নারী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাইলে রাজি হননি ভুক্তভোগী। তবে গত ১৮ মে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জোর করে ওষুধ খাওয়ানো হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একদিন পর জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রথমে বিয়ের প্রলোভন ও পরে ভয় দেখিয়ে জেলা শহরে বোনের বাসায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে। মামলার বিষয়টি জানাজানির পর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজমুল আহসান বলেন, ‘যেহেতু শহিদুলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে আমার কিছু বলা উচিত নয়। আদালত তার বিচার করবেন। তিনি দোষী হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নালিশি মামলার আরজি আদালত থেকে থানায় এসেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হবে।’