দিল্লিতে জন্তর মন্তরে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘পেলেট গান’ ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিমকোর্টে এই অস্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনে আহত ছাত্রছাত্রীদের উন্নতমানের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও জোরালো হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ছাত্র সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়া হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাস, ধোঁয়ার শেল এবং অন্যান্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামের পাশাপাশি পেলেট গানও চালায়। সেই ঘটনায় একাধিক ছাত্র গুরুতর জখম হন বলে জানা যায়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেখ ইরশাদ মনসুরী (২৫), সুমন চৌবে (২২),সাংবাদিক প্রশান্ত সিং (২৮), বিহারের দুই বছরের শিশু যুবরাজ এবং ১৯ বছরের সাহিল লোচব। বিশেষ করে সাহিলের একটি চোখে পেলেট ঢুকে যাওয়ায় তার দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলেও ঘটনাটি দেশজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পরই ১৯৭৬ ব্যাচের প্রাক্তন আইপিএস কর্মকর্তা তথা প্রাক্তন স্পেশাল ডিরেক্টর গৌরব বুরো সুপ্রিমকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। আবেদনে তিনি দাবি করেন যে,'পাম্প-অ্যাকশন’ গান সহ সব ধরনের প্রজেক্টাইল ও মেটালিক পেলেট ছোড়া অস্ত্রকে অসাংবিধানিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করে একেবারে নিষিদ্ধ করা হোক। তাঁর বক্তব্য , ভিড় নিয়ন্ত্রণের নামে এমন অস্ত্র ব্যবহার মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এর ফলে স্থায়ী অন্ধত্ব, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি এমনকি কাছ থেকে ছোড়া হলে মৃত্যুও হতে পারে। তাঁর আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, গত ২০ জুলাইয়ের অভিযানে আহত প্রত্যেকের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। পাশাপাশি কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জনসমাবেশ বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের অস্ত্র আর ব্যবহার না হয়। আবেদনকারীর আইনজীবীদের যুক্তি সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য 'পেলেট গান' ব্যবহার একেবারেই অনুপযুক্ত। এই পেলেট বন্দুক থেকে ছোড়া অসংখ্য ধাতব কণা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শুধু আন্দোলনকারী নয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ পথচলতি মানুষ, সাংবাদিক কিংবা জীবজন্তুরাও মারাত্মকভাবে আহত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে চোখ, পেলেট গান মুখ ও শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত লাগলে তার ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী হয়ে যায়।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা কোনও নতুন নির্দেশ না পেয়ে প্রচলিত ভিড় নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জামই ব্যবহার করেছেন। তবে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) এর স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এর উল্লেখ করে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে প্রজেক্টাইল পেলেট রাউন্ড ব্যবহারের কথা রয়েছে। আবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নথিভুক্ত একটি জেনারেল ডায়েরিতেও দাবি করা হয়েছে যে , এক ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের (ডিসিপি) নির্দেশে র্যাফের একটি ইউনিট পেলেট রাউন্ড ব্যবহার করে আন্দোলনস্থলে। ফলে এই নথিগুলিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। সকলের এখন নজর সুপ্রিমকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে।