Image description

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অন্তত ১০টি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও এসব সহিংসতা ঘটলেও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বড়ভাগ গ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একাধিক বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। তবে তীব্র আতঙ্কের কারণে সাধারণ বাসিন্দারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

জানা যায়, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন কলেজছাত্র সুমন শেখ। তিনি বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানীর এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় তার ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতেই প্রথম প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে ২৯ জুন স্থানীয় উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতিবাদী মানববন্ধনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়।

 

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

 

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। নিহত সুমন শেখ একটি পক্ষের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কুদ্দুস শেখ, হুসাইন শেখ, উকিল শেখ, এনায়েত শেখ, জনি শেখ, আলিম শেখ, শাহাদাৎ শেখ, আজগর শেখ, উজ্জ্বল শেখ ও রকিব শেখের বাড়িতে ভাঙচুরের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শতাধিক হামলাকারী শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে এবং কয়েকটির টিনের চাল পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।

 

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে আলিম শেখের স্ত্রী শাপলা বেগম পুলিশের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভেঙে আলমারিতে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এতে বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির ফাইজুর রহমান জানান, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে এখনো কেউ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেননি।

 

অন্যদিকে ফরিদপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, মূল হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।