কুড়িয়ে পাওয়া বিস্কুট খেয়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪ বছরের শিশু রবিউল মিয়া। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে শিশুটির মা রুনা বেগমও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত রবিউল কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা। সে মিজান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ জুন রবিউল বাড়ির সামনে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেন। কুকুরটি অর্ধেক বিস্কুট খেয়ে বাকি অংশ ফেলে রেখে যায়। পরে কুড়িয়ে পাওয়া সেই বিস্কুটটি রবিউল খেয়ে ফেলে। এর পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরিবারের দাবি, প্রথমে শিশুটিকে ভৈরব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে জলাতঙ্কের টিকা না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
নিহত শিশুটির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ, ‘প্রতিবেশী মুসা মিয়ার পরিবার নিয়মিত বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই আমার শিশু সন্তানটির এমন মৃত্যু হয়েছে। আমি দোষীদের বিচারের দাবি করছি।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার পরিদর্শক লিমন বোস বললেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’