চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারীতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হলে হঠাৎ করেই মঞ্চের একাংশ ধসে পড়ে। তবে এই ঘটনায় মঞ্চে উপস্থিত থাকা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, চন্দনাইশের দোহাজারীসংলগ্ন একটি এলাকায় ‘বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা যখন মঞ্চে উঠে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন, ঠিক তখনই বিপত্তি ঘটে। মঞ্চের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত নেতাকর্মী ও মানুষের উপস্থিতির কারণে হঠাৎ করেই মঞ্চের মাঝখানের অংশটি ভেঙে নিচের দিকে দেবে যায়। মঞ্চ ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী এবং দর্শকদের মাঝে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও চসিক মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে নেতাদের আগলে ধরেন এবং নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।
অনুষ্ঠানস্থলের ব্যানার ও ভিডিও ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় মঞ্চে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের সদস্য আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বাক ইদ্রিস মিয়াসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
মঞ্চ ভেঙে পড়ার মুহূর্তে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মেয়র শাহাদাত হোসেনকে ধরে ফেলেন। ফলে তারা বড় ধরনের কোনো শারীরিক আঘাত পাননি।
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান জানান, ‘মঞ্চটি মাটি থেকে খুব বেশি উঁচুতে না থাকায় এবং নিচে ত্রাণের বস্তা মজুদ থাকায় কোনো বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এটি ভেঙে পড়েনি। নিচে দেবে গেছে।’
ঘটনার পরপরই স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মঞ্চ ভেঙে গেলেও পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং বন্যাদুর্গত ও বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন করেন।