পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর বড় সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির অধিকাংশ বিধায়ক ও বহু সংসদ সদস্য বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলেও অনড় অবস্থানে রয়েছেন দলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ শনিবার তিনি বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেন। একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললেন, ‘আমাকে থামাতে চাইলে হত্যা করতে হবে।’
মমতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক তার নেতৃত্বাধীন অংশের কাছেই থাকবে। বিদ্রোহীদের আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিন মমতার জন্য আরও বড় ধাক্কা আসে। দলের পশ্চিমবঙ্গ সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। তিনি ছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠদের একজন।
তবে চন্দ্রিমার পদত্যাগে বিস্মিত নন বলে জানান মমতা। তার দাবি, চন্দ্রিমা আগেই তাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কারণ তার ছেলে আগেই তৃণমূলবিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।
বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও নাকচ করে দেন মমতা। তিনি বললেন, ‘ওটা তাদের সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে হাত মেলাব না।’
তার অভিযোগ, চাপের মুখে অনেক নেতা দল ছেড়েছেন। তবে তিনি বা তার দল বিজেপির কাছে মাথা নত করবে না।
গতকাল শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নেয় বিদ্রোহীরা। এ প্রসঙ্গে মমতা বললেন, ‘অফিসটি ভাড়ায় নেওয়া হয়েছিল ও ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এর লিজ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লেই দলের সম্পত্তির মালিক হতে পারে না।
তিনি বলেছিলেন, ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর সম্পত্তি কেউ জোর করে দখল করতে পারে না।’
দলীয় প্রতীক নিয়েও কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনিই। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই যারা দল ছেড়েছেন, তারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
চন্দ্রিমার পদত্যাগের পর জাতীয় ও রাজ্য— দুই স্তরেই দলের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার ঘোষণা দেন মমতা। একই সঙ্গে নিজের বাড়িকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করেন।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়। বিদ্রোহী নেতারা মমতার নেতৃত্বের পাশাপাশি তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এ পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি বিধায়ক, ২০ জনের বেশি লোকসভা সদস্য এবং অন্তত তিনজন রাজ্যসভার সদস্য মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ছেড়ে পৃথক হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, তৃণমূলের দুই পক্ষকে আগামী ৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার মধ্যে নিজ নিজ দাবি ও পাল্টা দাবি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।