Image description

খুলনায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় প্রত্যাশিত অগ্নেয়াস্ত্র। সন্ত্রাসীরা সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে এসব অস্ত্র আমদানি করছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক খুন, গুলিবর্ষণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এসব ঘটনায় বিদেশি পিস্তল, রিভলভারের পাশাপাশি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র পাচার অব্যাহত থাকায় অপরাধীদের হাতে সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যাচ্ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব অস্ত্রের একটি অংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছায়। সাতক্ষীরার কলারোয়া, ভোমরা, কালীগঞ্জ, যশোরের বেনাপোল, শার্শা ও পুটখালী সীমান্তে অস্ত্র পাচারের সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে। পাচারকারীরা মসলা, ফল, ভেষজসামগ্রীর চালানের পাশাপাশি ছোট আকারের বিদেশি পিস্তল ও রিভলভার লুকিয়ে দেশে প্রবেশ করায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ অস্ত্র ভারত থেকেই আমাদের দেশে প্রবেশ করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে পাইপগান, ওয়ান শুটার ও অন্যান্য দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির অভিযোগও রয়েছে। খুলনায় এখন হাত বাড়ালেই এসব অস্ত্রের নাগাল পাওয়া যায়। একজন অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র এক লাখ টাকা দিলেই পাওয়া যাবে থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল, এক ও দোনলা বন্দুক। দেড় লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় পিস্তল ও রিভলভার। খুলনায় লাগাতার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এসব অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।

সম্প্রতি নগরীর দৌলতপুরের একটি মসজিদে কুরআন পড়া অবস্থায় ব্যবসায়ীর ওপর গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে দুইজন আহত হন। ২৮ জুন রাতে নগরীর গল্লামারীতে চাঁদা না দেওয়ায় রফিকুল ইসলাম মানিক নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ২২ জুন খুলনার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী তুষার শিকদারসহ ৫ জনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

৭ মার্চ লবণচরা এলাকা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি রিভলভার, ৯৬ রাউন্ড গুলি ও চারটি ম্যাগাজিনসহ এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় অস্ত্রের চালান নিতে খুলনাকে ট্রানজিট রুট হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি বিদেশি রিভলভার, একটি দেশীয় বন্দুক, তিনটি ওয়ান শুটার, দুটি পাইপগান, ৪টি একনলা শটগান এবং ১২৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জন। আর বছরের শুরু থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত নগরীতে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ খুলনা অঞ্চলের সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের হাতেও পৌঁছে যাচ্ছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, আন্ডারওয়ার্ল্ড যারাই নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ অভিযানের মধ্যেই অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।