Image description

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক সালমান ফারেসী টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, র‍্যাবের সহায়তায় দুজনকে ঢাকা, একজনকে চট্টগ্রাম এবং অন্য আরেকজনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি মাহমুদ ওমর ফারুক রবিন তাজ ও মামুন লস্কার সরকারকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত মামুন লস্কারের বাড়ি মাগুরায় এবং সে আওয়ামী লীগের ‘বট বাহিনীর’ একজন সক্রিয় সদস্য। অন্যদিকে রবিন তাজের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, সে জুলাইপন্থী হিসেবে পরিচিত। তার ফেসবুকে শরিফ ওসমান হাদির ছবি নিয়ে অসংখ্য পোস্ট রয়েছে। এজাহারভুক্ত বাকি দুই আসামি হলেন জয়নাল আবেদিন মানিক ও জুয়েল রানা।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সহকারী নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ জুলাই বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ফেসবুক ও ‘BD BINODON BD’ নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রী ইসরাত শামস মলির নামে আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেয়। আসামিরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি (যেমন: Joynal Abedin Manik, Robin Taj, Mamun Laskar) ব্যবহার করে বিভিন্ন মানহানিকর পোস্ট ও লিংক শেয়ার করে।

এসব পোস্ট ভুক্তভোগীর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছেও পাঠানো হয়। পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টায় এই কাজ করা হয়েছে। বিষয়টির স্পর্শকাতর বিবেচনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের গুলশান থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন টাইমসকে বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই ঘটনার পেছনে গভীর রাজনৈতিক শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর প্রথমবার লন্ডনপ্রবাসী ‘ভুট্টো রব’ নামের এক ব্যক্তি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। সে সময় রিপোর্ট করে তার পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হলেও অনেকেই তা কপি ও শেয়ার করে ফেলেন। সম্প্রতি সেই পুরোনো কনটেন্টগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, বিশেষ করে ‘আওয়ামী বট বাহিনী’ এই প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত। এর পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে এসব করা হতে পারে। এ ছাড়া এই অপপ্রচারের সঙ্গে কুমিল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক মেয়র সূচনা বাহারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোবাইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে পুলিশ। ফরেনসিক এক্সপার্ট তানভীর হাসান জোহা ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করছেন।

তিনি টাইমসকে বলেন, জব্দ করা ডিভাইসগুলো বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত আছে। আমরা তাদের পরিচয় উন্মোচন করার চেষ্টা করছি।