একসময়কার ‘সবার আগে গোপালগঞ্জ’ এর মতো এখন দেশের মানুষ ‘সবার আগে বগুড়া’ বলবেন কিনা, সংসদে তা জানতে চেয়েছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আতিকুর রহমান মোজাহিদ।
তিনি বলেছেন, ‘নিন্দুকেরা বলেন— একসময় বলা হতো সবার আগে গোপালগঞ্জ। এখন কি আমরা বলব সবার আগে বগুড়া? আমরা এই বাংলাদেশ চায় না। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ হলে প্রতিটা প্রান্তের মানুষের জন্য সমান ধরনের বাজেট থাকতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছেন তিনি। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না— সেখানে এক উপজেলায়, কি এক ক্যারিশমেটিক মিরাকল- সেখানে চলে যায় ৭৬ কোটি টাকা।
আতিকুর রহমান মোজাহিদ উল্লেখ করেন, ‘ইদানিং নিন্দুকেরা বলেন, নতুন একটা উপজেলার আবির্ভাব ঘটেছে—এটাকে বলা হচ্ছে নবাবী উপজেলা। আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না— সেখানে এক উপজেলায়, কি এক ক্যারিশমেটিক মিরাকল- সেখানে চলে যায় ৭৬ কোটি টাকা।’
প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ঠ বরাদ্দ থাকতো, আধুনিক অস্ত্র থাকতো; তাহলে আমাদের লোক দিয়ে একক কর্তৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানকে যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ থেকে একটা ভাঙা ওয়্যারলেস দেওয়া হয়েছিল। রাগ করে ফেলে দিয়ে ভারতীয় কমান্ডোকে তিনি বলেছিলেন— “অস্ত্র যখন দিবা, সরঞ্জামাদি যখন দিবা, তখন এমন জিনিস দাও যেটা ফাংশান করে, ডিসফাংশনাল দিও না, এটা আমাদের বাধাগ্রস্ত করে”।’
এই আজাদী ভূমিকে রক্ষার জন্য যদি এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে যেন বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
আধুনিক অস্ত্রে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি তুলে এনসিপির এ সংসদ সদস্য আরও বলেছেন, ‘প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সীমান্ত দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে তেমন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমাদের মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধ চলমান আছে। পার্বত্য তিন জেলায় তিনটা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, কু-কি চিনের বিরুদ্ধে আর্মির দুইটা ডিভিশন কাজ করছে।’
আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জামের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মোজাহিদ। তার ভাষ্য, ‘ভারত জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়, মিয়ানমার জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। পৃথিবীর সব দেশে গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু আমাদের সেটা নাই। এই আজাদী ভূমিকে রক্ষার জন্য যদি এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে যেন বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কারণ, প্রতিনিয়ত আমাদের সীমান্ত হুমকির মুখে আছে। আমাদের সবার দেশ রক্ষা করতে হবে।’