বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে মামুনুল হকের অতীতের একটি ঘটনা উল্লেখ করলে সরকারি ও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু আশফাক বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার সমালোচনা করেন এবং পরে মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়া হলেও অতীতে আলোচিত কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি মামুনুল হককে ঘিরে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আনা সমীচীন নয়। বিশেষ করে এমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা মন্তব্য করা ঠিক নয়, যার সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা না করাই ভালো।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, মামুনুল হক সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। যেহেতু তিনি সংসদে উপস্থিত নেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নেই, তাই বিষয়টি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে ভুল তথ্য সংসদের রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।
এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় ও অপ্রাসঙ্গিক অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সবার বক্তব্য শোনার পর স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আলোচিত বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে রাখার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিজীবনের বিতর্কিত বিষয় এখানে আলোচিত হোক, তা আমি চাই না। এ ধরনের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা সংসদের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তা জনস্বার্থেও প্রয়োজনীয় নয়।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন, ইসলামী শরিয়াহর আলোচনায় অতীতে যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গই বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।