Image description

টানা তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের হতে না হতেই দেশটির ওপর নতুন করে খবরদারি করতে শুরু করেছে ‍যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বিপুল পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াল স্ট্রিট’ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

 

তদন্তকারীরা মূলত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। মোজতবা খামেনির নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করতে পারে, সেজন্য ‘জেপি মরগান চেজ’ ও ‘সিটিগ্রুপ’-এর মতো বড় মার্কিন ব্যাংকগুলো কোনোভাবে সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর তদারকিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে তদন্ত চলার মানেই এই নয় যে এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।

 

চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন-ইসরায়েল বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

 

ব্লুমবার্গের আগের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির একটি বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য রয়েছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল, সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ব্রিটেনে বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে। এই বিশাল তহবিল যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, লিচেনস্টাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

 

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে খামেনি তার বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য ‘আলী আনসারি’ নামে এক অর্থদাতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন। যদিও আনসারি খামেনির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।

 

মার্কিন বিচার বিভাগ খামেনির এই নেটওয়ার্ক থেকে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাংক ও ‘হিলটন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোকে সম্পত্তির জন্য দেওয়া অর্থ প্রদানের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে।

 

এই তদন্তটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, বুধবারই (১৭ জুন) যুদ্ধ শেষ করতে ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন তদন্তের বিষয়টি দুই দেশের কূটনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।