Image description

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ দেশি নাগরিক হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।‘

তিনি জানান, সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা বাংলাদেশ সব সময় করে এসেছে এবং এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নও উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তবে সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।

এদিকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা মোট ২ হাজার ৩৬৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে।

সীমান্তে পুশইন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।