মামলার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘হাজার হাজার মামলা হয়েছে। আপ্রাণ চেষ্টা করার পরও মামলার জটিলতা নিরসন করা যাচ্ছে না।’
আজ বুধবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
এর আগে সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক পয়েন্ট অব অর্ডারে শিক্ষকের অভাব এবং মামলা জটিলতার প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালতপাড়ায় গিয়ে এসব মামলার জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত আপিল বিভাগে মামলাগুলো কার্যতালিকায় আসছে না। ফলে সারা দেশে শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘শুধু শিক্ষক নিয়োগই নয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগও মামলার কারণে আটকে আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দপ্তরি-কাম-নাইটগার্ড নিয়োগ কার্যক্রমও একই কারণে স্থগিত রয়েছে।’
‘প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে বর্তমানে হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। দেশে ইতোমধ্যে আরও প্রায় ৩৩ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগেই অবসরে চলে যাচ্ছেন। সারা বাংলাদেশে এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন, যারা প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। মামলার জটিলতার কারণে বিষয়গুলো সমাধান করা যাচ্ছে না’—যোগ করেন তিনি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এ সংক্রান্ত দায়িত্ব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিচারাধীন মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হচ্ছে।