Image description

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আবেদন করেছেন-এমন ছয় হাজার নাগরিকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (১৭ জুন) সংস্থাটির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, দেশটি থেকে মোট ১৬ হাজার ৭১৫ জন প্রবাসী এনআইডি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এদের মধ্যে ১০ হাজার ৯৬৮ জনের আবেদন অনুমোদন করেছে কমিশন।

আর তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৭ জনের এনআইডি প্রিন্ট করা হচ্ছে। এগুলো শিগগিরই দূতাবাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে সরবরাহ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডার মায়ামি ও ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গত বছর দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডি কার্যক্রম শুরু করে ইসি। এ ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে বসবাসরত ৪ হাজার ১৭০ জন, ওয়াশিংটনে ৪৩০ জন, মায়ামিতে ৩৬৫ জন এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪৪২ জনের এনআইডি পাঠিয়ে দেবে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরন্টো; জাপানের টোকিও; যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মায়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত সবগুলো দেশ থেকে প্রায় এক লাখ আবেদন এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার নাগরিক এনআইডি পেয়েছেন।

প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক

বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক)), মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট, এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, অনলাইন জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।

এদিকে বিশেষ ৫৬টি উপজেলা/থানার (চট্টগ্রাম অঞ্চল) নাগরিকদের জন্য ‘বিশেষ তথ্য ফরম’ পূরণ, শিক্ষা সনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত হলে মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), কতিপয় দেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নিকাহনামা এবং স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও কর্তৃক), ইউটিলিটি বিলের কপি (ভোটার এলাকার ঠিকানার বিদ্যুৎ/পানি/গ্যাস বিলের কপি), ভাড়াটিয়া হলে বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র ও বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে।

বাধ্যতামূলক নয়-এমন তথ্যগুলো নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসী নাগরিকরা দেশে বসবাসকারী তাঁদের আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন।

প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশে বসে ভোটার হওয়ার ফরম পূরণ করলে এবং সব তথ্য সঠিক থাকলে নির্বাচন কমিশন ওই ব্যক্তির উপজেলায় তদন্ত করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। এরপর তথ্যের সঠিকতা পাওয়া গেলে আবেদন অনুমোদন করে তাকে ভোটার করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর এনআইডি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শীর্ষনিউজ