Image description

কোম্পানি হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। অন্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ভিন্ন বেতন কাঠামো থাকবে চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট, নার্সসহ অফিসিয়ালদের। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগ করে দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা। এ সিদ্ধান্ত হয় গত ৪ জুন মন্ত্রিসভায়; যেখানে অনুমোদন হয় ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়া।

বিদেশি ঋণের এ হাসপাতালের ঋণ পরিশোধ নিয়েও চিন্তিত সরকার। আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। কোম্পানি করার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘এ ঋণের অর্থ পরিশোধের দায় সরকারের।’

এর আগে ১১ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সভায় হয় হাসপাতাল সংবিধি সংশোধন। ওই সভার সিদ্ধান্ত হাসপাতালটি চলবে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে। আর এই সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক হয়ে উঠতে পারে হাসপাতালটি। নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাব্যয়। এমন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।

আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে কিছু নিয়মতান্ত্রিক ঘাটতিও। সাধারণত আইনের খসড়া চূড়ান্তের আগে আইন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে নিতে হয় সাধারণ মানুষের মতামত। অংশীজনদের নিয়ে সভা করা ছাড়াও নিয়ম রয়েছে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের। তবে সময়স্বল্পতার দোহাই দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি খসড়াটি। হয়নি অংশীজন বা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও।

বিদেশমুখী চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিএমইউর অধীনে হয়েছিল সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। ৭৫০ শয্যার এই হাসপাতাল জাপানের সহায়তায় তৈরি। তবে জনবল সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অস্পষ্টতা ছিল বরাবরই। ফলে এখনো চালু করা যায়নি পূর্ণাঙ্গভাবে। বিপুল ব্যয়ে গড়া অবকাঠামো যেন পড়ে আছে অচল অবস্থায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি পৃথক কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে হাসপাতালটি। যেখানে থাকবে বিএমইউ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্ব। সরকার ধারণা করছে, এই কাঠামো চালু হলে হাসপাতাল পরিচালনায় আসবে গতি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভব হবে আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও।

হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি রোগ এবং নিউরোসার্জারির মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা এক ছাদের নিচে দেওয়ার লক্ষ্যে হয়েছিল হাসপাতালটি। কিন্তু দীর্ঘদিন স্থবির থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা। তাই পরিকল্পনায় বড় বদল আনলেও এর ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করবে নীতিমালার স্বচ্ছতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ওপর।

বিস্তারিত আসছে