ড. মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান
একটি কল্যাণকামী ও সংবেদনশীল সমাজে প্রবীণরা হবেন পরিবারের বটবৃক্ষ, সমাজের দিকনির্দেশক। কিন্তু বর্তমান পুঁজিবাদী ও তীব্র ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থায় এই ধারণাটি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে তৈরি হচ্ছে একক পরিবার। আর সেই পরিবারের পরিধিতে অনেক সময়ই জায়গা হচ্ছে না জন্মদাতা মা-বাবার। ফলে শেষ বয়সের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিতে হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নামক এক চিলতে চার দেয়ালের বন্দিজীবন।
মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর এই বাস্তবতার পেছনে সন্তান যেমন তাঁর নৈতিক ও পারিবারিক দায় এড়াতে পারেন না, তেমনি রাষ্ট্র বা সরকারও তার নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার আইনি ও কাঠামোগত দায় থেকে মুক্ত হতে পারে না। এই দুই পক্ষের দায়ের জায়গাটি আসলে কতটুকু, তা গভীরভাবে তলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আইন ও বাস্তবতার খতিয়ান
২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ ছিল বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অবহেলিত পিতা-মাতার অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আইনের প্রধান দিকগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক: (০১) বাধ্যতামূলক ভরণ-পোষণ: প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। সন্তান একাধিক হলে নিজেরা আলোচনা করে এই দায়িত্ব বণ্টন করবেন। (০২) একত্রে বসবাস ও নিয়মিত সাক্ষাৎ: পিতা-মাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও আলাদা রাখা যাবে না। সন্তানকে অবশ্যই তাঁর পিতা-মাতাকে নিজের সঙ্গে রাখতে হবে অথবা নিয়মিত যোগাযোগ ও দেখাশোনা করতে হবে। (০৩) চিকিৎসা ও মাসিক ভাতা: পিতা-মাতা আলাদা থাকলে সন্তানকে তাঁর আয়ের একটি যৌক্তিক অংশ নিয়মিত দিতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। (০৪) দণ্ড ও শাস্তি: আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের অনূর্ধ্ব কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী যদি এই দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তবে তিনিও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।
আইনটি নিঃসন্দেহে কঠোর এবং দূরদর্শী। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ কতটুকু? সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমীক্ষা বলছে, গত এক দশকে এই আইনে মামলা বা অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা খুবই নগন্য। এর কারণ আইনি দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো। কোনো বাঙালি মা-বাবা যতই নির্যাতিত বা অবহেলিত হোন না কেন, তাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানের বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে গিয়ে দাঁড়াতে চান না। লোকলজ্জা, সন্তানের প্রতি অন্ধ স্নেহ এবং ‘মামলা করলে সন্তানের ক্যারিয়ার নষ্ট হবে’—এই ভয় তাঁদের মুখ বুজে সব কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য করে। ফলে আইনটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে ফাইলবন্দি।
ভাঙছে যৌথ পরিবার, বাড়ছে প্রবীণদের একাকীত্ব
আইনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা। অথচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক সংস্কৃতিতে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ ধারণাটি অত্যন্ত পরজীবী ও অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠনের হিড়িক এবং তীব্র ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতা প্রবীণদের ঠেলে দিচ্ছে এই আশ্রয়ের দিকে।
বৃদ্ধাশ্রমে যাপিত দিনকাল বাইরে থেকে যতই গোছানো বা পরিপাটি মনে হোক না কেন, ভেতরের পরিবেশটা তীব্র একাকীত্ব আর দীর্ঘশ্বাসে ভারী। সেখানে তিন বেলা হয়তো সময়মতো খাবার জোটে, অসুস্থ হলে ডাক্তারও আসে; কিন্তু যা জোটে না, তা হলো পরম মমতা ও আপনজনের স্পর্শ। নাতির হাতের ছোঁয়া, ছেলের সঙ্গে রাতের খাবারের টেবিলে বসা কিংবা মেয়ের সঙ্গে দুটো সুখ-দুঃখের গল্প করার যে চিরন্তন আকুলতা—তা কোনো বিলাসবহুল বৃদ্ধাশ্রমও দিতে পারে না।
সেখানকার বাসিন্দাদের দিন কাটে ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে—কবে ঈদ আসবে, কবে পূজা আসবে, কবে সন্তান একবারের জন্য হলেও মুখটি দেখাতে আসবে। অনেক সময় দেখা যায়, সন্তানেরা বৃদ্ধাশ্রমের খরচ ঠিকই ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু বছরের পর বছর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করছেন না। এটি এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন’ হতে পারে, কিন্তু একে কোনোভাবেই ‘ভরণ-পোষণ’ বা নৈতিক দায়িত্ব বলা যায় না। অর্থের অহংকারে মা-বাবার আবেগকে বৃদ্ধাশ্রমে বন্দি করার এই প্রবণতা এক মানসিক অপরাধের শামিল।
সন্তানের দায়: নৈতিকতার চরম পরীক্ষা
সন্তানের দায় কোনো আইনি ধারায় পরিমাপ করার বিষয় নয়, এটি সম্পূর্ণ নৈতিক, আত্মিক এবং মনস্তাত্ত্বিক। যে মা-বাবা নিজের জীবনের সেরা সময়, শ্রম আর উপার্জনকে নিঃশেষ করে সন্তানকে সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেন, প্রবীণ বয়সে এসে সেই মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়া সন্তানের প্রধানতম অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
অস্তিত্বের ঋণ স্বীকার: সন্তান যত বড় শিক্ষিত বা প্রতিষ্ঠিতই হোক না কেন, মা-বাবার অবদানের কাছে সে চিরঋণী। কর্মব্যস্ততা, ফ্ল্যাটের জায়গার অভাব বা জীবনযাত্রার খরচের অজুহাতে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো আসলে এক ধরনের ‘নৈতিক দেউলিয়াত্ব’।
আর্থিক বনাম মানসিক ভরণ-পোষণ: অনেক সন্তান মনে করেন, বৃদ্ধাশ্রমের মাসিক খরচ বা ওষুধের টাকা ব্যাংকে পাঠিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু প্রবীণ বয়সে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় আপনজনের স্পর্শ, নাতি-নাতনিদের কোলাহল আর সন্তানের মুখে দুটো মিষ্টি কথা। কোনো বিলাসবহুল বৃদ্ধাশ্রমও এই পারিবারিক আবহ ও মানসিক শান্তি দিতে পারে না। আর্থিক খরচ জোগানো দায়িত্বের একটা অংশ মাত্র, আসল দায়িত্ব হলো তাঁদের পাশে থাকা।
ভবিষ্যতের পাঠশালা: আজ যে সন্তান তাঁর মা-বাবাকে অবহেলা করছেন, তিনি ভুলে যাচ্ছেন যে তাঁর নিজের সন্তানও এই একই আচরণ শিখছে। মা-বাবার সাথে আমরা যে আচরণ করব, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আমাদের সাথে ঠিক তা-ই ফিরিয়ে দেবে—এটি প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম।
রাষ্ট্রের দায়: আইন প্রণয়ন, কাঠামোগত পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষা
একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মূল দায়িত্বই হলো তার প্রতিটি নাগরিকের—বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন’ পাস করেছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু শুধু আইন করেই রাষ্ট্রের দায় শেষ হয়ে যায় না।
আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সচেতনতা: ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী মা-বাবাকে অবহেলা করলে বা ভরণ-পোষণ না দিলে সন্তানের জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে এই আইনের প্রচার খুবই কম। তাছাড়া, লোকলজ্জা আর সন্তানের প্রতি অন্ধ স্নেহের কারণে মা-বাবারা সাধারণত সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। সরকারকে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যাতে প্রবীণরা সরাসরি মামলা না করলেও রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে অবহেলিত প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে পারে (যেমন: হটলাইন বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তদারকি)।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভাতা বৃদ্ধি: বর্তমান বাজারদরের তুলনায় রাষ্ট্রের দেওয়া বয়স্ক ভাতার পরিমাণ খুবই সামান্য। একজন প্রবীণের চিকিৎসা ও জীবনধারণের জন্য এই ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। রাষ্ট্রের উচিত এই ভাতার পরিমাণ সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা এবং প্রবীণদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ও বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা (জেরিয়াট্রিক কেয়ার) নিশ্চিত করা।
দিবাযত্ন কেন্দ্র ও রাষ্ট্রীয় মনিটরিং: কর্মজীবী দম্পতিদের জন্য যেমন শিশু যত্নের কেন্দ্র থাকে, তেমনি প্রবীণদের জন্যও সরকারি উদ্যোগে ‘প্রবীণ দিবাযত্ন কেন্দ্র’ গড়ে তোলা যেতে পারে। যেখানে সন্তানরা কাজের সময় মা-বাবাকে রেখে যাবেন এবং ফেরার পথে নিয়ে আসবেন। এছাড়া দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমগুলোর পরিবেশ ও মানবিক অধিকার বজায় থাকছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
আইনের প্রচার ও সেল গঠন: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন সম্পর্কে গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলেই ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি থানায় বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি বিশেষ ‘প্রবীণ সহায়তা সেল’ থাকা উচিত, যেখানে কোনো প্রবীণ ব্যক্তি নিজে না এলেও প্রতিবেশীর অভিযোগ বা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার: সরকারিভাবে ‘বয়স্ক ভাতা’র পরিমাণ বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করে বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা (জেরিয়াট্রিক কেয়ার) চালু করতে হবে।
বৃদ্ধাশ্রমের লাইসেন্সিং: দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে। সেখানে প্রবীণরা সঠিক চিকিৎসা ও মানবিক পরিবেশ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত অডিট করা দরকার। পাশাপাশি, সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি জেলায় ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’ বা দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে কর্মজীবী সন্তানেরা দিনের বেলা মা-বাবাকে রেখে যাবেন এবং কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পথে আবার ঘরে নিয়ে যাবেন।
পাঠ্যপুস্তকে নৈতিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমেই মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব এবং প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি গল্প ও উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে। নৈতিকতার বীজটি বুনে দিতে হবে শৈশবেই।
দায় যখন যৌথ
বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত মা-বাবার চোখের জল আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতার প্রতীক। সন্তান যদি তাঁর নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখেন এবং সরকার যদি তাঁর আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার দেয়ালটি শক্ত করে তোলে, তবে কোনো মা-বাবাকেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিঃসঙ্গতার নির্মম প্রহর গুনতে হবে না। আইন দিয়ে হয়তো সন্তানকে বাধ্য করা যাবে, কিন্তু প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রয়োজন পারিবারিক ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার এক যৌথ মেলবন্ধন। প্রবীণ বয়সটা মানুষের জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে মানুষ শৈশবের মতো অবুঝ এবং পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাঁদের তখন একটু বাড়তি মনোযোগ, একটুখানি ভালোবাসা আর পরম শ্রদ্ধার প্রয়োজন হয়। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোনো সন্তানের দায়িত্ব এড়ানোর স্থায়ী ঠিকানা না হয়।
আইন দিয়ে হয়তো কাউকে বাধ্য করে ঘরে রাখা যাবে, কিন্তু মনের ভেতর ভালোবাসার জন্ম দেওয়া যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। সন্তানের ভালোবাসা আর রাষ্ট্রের সুরক্ষার ছায়াতলে প্রতিটি মা-বাবার শেষ জীবনটা হোক উৎসবের, সম্মানের এবং পরম শান্তির। কারণ, আজকের তরুণই আগামী দিনের প্রবীণ—এই সত্যটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। খোঁজ নিয়ে জানা দরকার কাদের বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকে, তারা কোথায় কী করে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত কারো বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকলে তারা আদৌ রাষ্ট্রীয় সুবিধা যেমন নাগরিকত্ব, চাকরি পাবার যোগ্যতা রাখে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট ভাববার সময় এসেছে।
লেখক: জনস্বাস্থ্য ও সমাজনীতি বিষয়ক গবেষক; শিক্ষক ও চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।