ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় দুই পুলিশকে সাময়িক সাসপেন্ড করার পর সোর্স মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে আজ শনিবার জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী।
এ ঘটনায় পুলিশের উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শওকত আলী আগামীর সময়কে দুপুর দেড়টায় বলেছেন, ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোহেলকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘দুই পুলিশ সদস্যকে একই ঘটনায় সাময়িক সাসপেন্ড করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা সিরিয়াসলি এ ঘটনা আমলে নিয়েছি। কোনো ছাড় নয়।’
সোহেল থানার ভেতরে যখন পুলিশের সঙ্গে এসির বাতাস খাচ্ছিল, তখন গভীর রাতে নাঈমের বাবাকে থানার বাইরে ১৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নাঈমের বড় ভাই কামরুল আলম জানালেন, রাতে স্থানীয় লোকজন যখন সোহেলকে থানায় নিয়ে যায়। তখন ওসি সোহেলকে তার পাশে বসিয়ে রাখেন।
শুক্রবার রাতে নাঈমকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি গলা টিপে ধরে পুলিশ। এ ছাড়া তাকে পুলিশের হাতে থাকা পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সোহেলও নাঈমকে মারধর করেন। পরে সোহেল নিজেকে ডিবি পরিচয় দেন। তখন সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন তার কাছে পরিচয়পত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। পরে লোকজন তাকে খুলশী থানায় ধরে নিয়ে যায়। তার বাসা গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় বলে জানা যায়।
রাত সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় ফ্লাইওভারের মুখে নাঈমের সিএনজির গতিরোধ করে পুলিশ। এ সময় তিনজন পোশাক পরিহিত পুলিশ ও একজন পাঞ্জাবি পরা লোক ছিলেন। পাঞ্জাবি পরিহিত যুবকের নাম সোহেল। তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।
নাঈমের বড় ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাতে সোহেলকে তিন নম্বর আসামি দেখানো হয়। অপর দুজন হলেন এসআই শফিক ও কনস্টেবল রাসেল । দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।