মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন,পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষি, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কৃষি উৎপাদন বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; বরং কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং এসব কার্ডধারীরা নগদ আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারী শিক্ষার উন্নয়নেও সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ওপর থেকে কর প্রত্যাহারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন বাজেট ঘোষণার পর কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, কর বৃদ্ধি করা হয়েছে শুধুমাত্র মদ ও সিগারেটের ওপর, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পাতলী খাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি প্রকল্প। ১৯৭৭ সালে দেশের কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম অংশ। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।
কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাতেই তার ঢাকায় ফেরার কথা।