আকাশছোঁয়া ওড়ার ক্ষমতা, ধারালো নখ আর প্রখর শিকারি দৃষ্টি ঈগল মানেই তো বনের গহীনে লুকিয়ে থাকা এক রাজকীয় ও হিংস্র পাখি। কিন্তু প্রকৃতির সেই চেনা নিয়মকে ওলটপালট করে দিয়ে এক অদ্ভুত রূপকথা তৈরি করেছেন বৃদ্ধ মোতালেব।
শিকারি স্বভাব ভুলে এক গ্রামীণ বৃদ্ধের পরম বন্ধু হয়ে উঠেছে একটি বিপন্ন ঈগল! মানুষ আর বন্যপ্রাণের এই অবিশ্বাস্য ভালোবাসার গল্প এখন মুখে মুখে ঘুরছে রানীশংকৈলের বাচোর ইউনিয়নের দোশিয়া রাজবাড়ী গ্রামে।
এই ভালোবাসার গল্পের নায়ক মোতালেব হোসেন। পেশায় তিনি এক সাধারণ হাসকিং মিলের (ধান ভাঙার কল) চালক। আর তার সঙ্গী? এক বিশাল ডানাওয়ালা ঈগল পাখি।
মোতালেবের বাড়ির পাশেই রয়েছে রাজা টংকনাথের রাজবাড়ী। মাসখানেক আগের কথা। একদিন সেখানকার এক প্রাচীন শিমুল গাছের নিচে ছটফট করতে দেখেন এই ঈগলের ছানাটিকে। কোনো ঝড়-বৃষ্টিতে বা দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়ে উড়তে না পারা ছানাটি তখন মৃত্যুর মুখে। অসহায় পাখিটিকে দেখে মায়া হয় মোতালেবের। পরম স্নেহে কোলে তুলে বাড়ি নিয়ে আসেন। তারপর থেকেই শুরু হয় এক বন্য পাখিকে সন্তানের মতো বড় করে তোলার গল্প।
বৃদ্ধ মোতালেব হোসেন আবেগ জড়ানো গলায় বললেন, ‘এই ঈগলটি এখন আমার একমাত্র পরম বন্ধু’।