পাবনা শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আজ সোমবার বিকালে শহরের মাসুম বাজার এলাকায় আলী হোসেন (৫৩) নামে এক চরমপন্থী সদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। একই দিন বিকালে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মনিরুল ইসলাম নামের এক কলেজছাত্র।
দুই খুনের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আলী হোসেন সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে। তিনি চরমপন্থী দল নকশালের সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নিহত কলেজছাত্র মনিরুল ইসলাম সাঁথিয়া থানার শিবরামপুর পশ্চিমপাড়ার মুন্নাফ আলীর ছেলে।
এদিকে কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একই এলাকার আলম হুজুরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী হোসেনের ছেলে শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। প্রতিদিনের মতো সোমবারও বাড়ি থেকে রিকশায় ছেলেকে মাদ্রাসায় নামিয়ে দিতে এসেছিলেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাদের বহনকারী রিকশাটি মাদ্রাসার প্রধান গেটের সামনে পৌঁছামাত্র দুটি মোটরসাইকেলে চার যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে বিকাল ৫টার দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার পাবনা পেট্রোলিয়াম পাম্পের পেছনে মনিরুল ও রাকিবের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাকিব মনিরুলকে ছুরিকাঘাত করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাকিবকে আটক করে পুলিশ।
এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত মনিরুলকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেছেন, ‘আমরা আলী হোসেন হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আশপাশের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি রিকশা থেকে নামার মুহূর্তে দুটি মোটরসাইকেলে চার তরুণ এসে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছে। নিহত আলী হোসেন নকশালদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, কলেজছাত্র মনিরুল হত্যার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়েই পুলিশ তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।