আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি বলেছেন, সাতক্ষীরায় নির্বাচনে জয় পেতে হলে এখন থেকেই ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ নিতে হবে।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষ্যে জেলা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সাতক্ষীরায় যদি পাস করতে হয়, তাহলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের এমন অবস্থান তৈরি করতে হবে, যাতে ফলাফল আমাদের ঘরেই আসে।
তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। আমরা সাংগঠনিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না বলেই দলীয় পরীক্ষায় পাস করতে পারিনি। জামায়াত যখন বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছে, আর আমরা তখন নিজেদের দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় আমরা ক্ষমতায় ছিলাম না। তখন ক্ষমতায় ছিল জামায়াত, এনসিপি ও ড. ইউনূসের সরকার। যারা তখন ক্ষমতায় ছিলেন, তারা আমাদের পক্ষের শক্তি ছিলেন না। সাতক্ষীরায় যারা ডিসি ও এসপি হয়ে এসেছেন, তারা জামায়াতের বীজ বপন করে চারটি নির্বাচনি আসনে পোলিং এজেন্ট তৈরি করে গেছেন। এ জেলার প্রশাসন আমাদের পক্ষে ছিল না। গত সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিএনপি ভালো ফল করলেও সাতক্ষীরায় দল সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমত উল্লাহ পলাশ। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আলাউদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ, সাবেক মেয়র তাজকীন আহমেদ চিশতী, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী ও মনিরুজ্জামান এবং যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো শাহীন ইসলামসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের কাছ থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।