Image description

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হলো না। ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে পিটার বাটলারের দল।

 

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ লড়াইয়ে ছিল ভালোভাবেই। শুরুতে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও ধীরে ধীরে আক্রমণে ওঠে তারা। ১২ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার দারুণ পাস থেকে খুব কাছ থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, কিন্তু বল ছুঁতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তহুরা খাতুনও ভারতের গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ডিফেন্ডার জুলি কিশান তাকে শট নিতে দেননি।

 

ভারতও পাল্টা সুযোগ তৈরি করেছে। ১৬ মিনিটে নির্মলা দেবীর শট ঠিকভাবে ধরতে পারেননি বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার। ফিরতি বলে আস্তাম ওরাওনের সামনে সুযোগ এলেও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

 

৩৮ মিনিটে মনিষা কল্যাণের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে বিপদমুক্ত করেন মিলি।

 

৪২ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় ভারত। পেয়ারি জাজার শট বাংলাদেশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। গোলরক্ষক মিলি অনেকটা সামনে এগিয়ে থাকায় বল তাঁর মাথার ওপর দিয়ে জালে চলে যায়।

 

তবে পিছিয়ে পড়েও ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ আক্রমণ থেকে সমতা ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। আনিকার কাছ থেকে বল পেয়ে তহুরা সেটি বাড়ান ঋতুপর্ণার দিকে। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলেই এবারের আসরে প্রথমবার গোল হজম করে ভারত।

 

প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বিরতির পর খেলা শুরুর ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় পেয়ারি জাজার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন সানফিদা। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১।

 

এরপর ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। ৫১ মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে হেড নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

 

৫৮ মিনিটে শামসুন্নাহার বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে বাংলাদেশ, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৬০ মিনিটে আনিকার বদলে মনিকা চাকমাকে নামান কোচ পিটার বাটলার।

 

শেষ দিকে বাংলাদেশের রক্ষণ আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে। ৮৩ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতের হয়ে তৃতীয় গোল করেন কম সেরতো। এই গোলের পর বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

 

এর আগে ভারত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল। অন্যদিকে গত দুই আসরের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ এবার নেমেছিল হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে। কিন্তু ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রক্ষণভাগের ভুল এবং সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মূল্য দিতে হলো বাংলাদেশকে।