জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার কখনও প্রশাসন পরিচালনায় বা দেশ পরিচালনায় ভালো ছিল না। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে তারা সবসময় খুব বাজে পারফর্ম করে। আমরা দেখেছি যে তারা বলেছিল বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। কিন্তু বিদ্যুতের দাম দুই বছরের মধ্যে বাড়বে না বলার ঠিক দুই মাস পরেই বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেছেন, গ্যাসের দাম প্রায় ১২০০-১৪০০ টাকা থেকে এখন প্রায় ১৯০০ টাকার কাছাকাছি। ৫০ শতাংশ গ্যাসের দাম বেড়েছে। এটা গত শেখ হাসিনার আমলে ১৭ বছরে যতটা বেড়েছিল, তিন মাসে ততটুকু গ্যাসের দাম বিএনপি সরকার বাড়িয়েছে।
আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুমিল্লা জেলায় একটি পার্টি সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়া মানে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়বে। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যে চ্যালেঞ্জ, এটা প্রত্যেক নাগরিককে—আপনাকে, আমাকে—ভোগ করতে হবে। কারণ আমাদের তো আয়-রোজগার বাড়েনি, সাধারণ জনগণের আয়-রোজগার বাড়েনি, কিন্তু খরচ বেড়ে যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস—এগুলোই তো আমাদের ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মূল এনার্জি। এটার দাম যখন বাড়বে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের উৎপাদিত পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এবং এর প্রভাব আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনে পড়বে।
তিনি বলেন, বিএনপির এই প্রশাসন পরিচালনার ব্যর্থতা এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ব্যর্থতা—সবকিছু মিলিয়ে তারা ইতোমধ্যেই একটি অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে।
আসিফ বলেন, আমাদের জাতীয় নির্বাচনের আগে যেহেতু আমি সরকারের অংশ ছিলাম, বারবারই বলা হতো যে নির্বাচিত সরকার আসলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দেশে ধর্ষণ—সেটারও সমাধান হবে নির্বাচিত সরকার। দেশে যদি কোথাও ছিনতাই-রাহাজানি হতো, তখনও বলা হতো নির্বাচিত সরকার। শাহবাগ কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার আসলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মব কালচারের ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার আসলে সমাধান হবে। দেশে নির্বাচিত সরকার আসলো, কিন্তু আমরা এর কোনো কিছুরই পরিবর্তন না, বরং আরও সবকিছু বাড়তে দেখছি। আমরা দেখছি মব জাস্টিস বেড়ে গেছে। এই মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৪ জন। এরমধ্যে ছয়জন শিশুকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদের যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন বলেছিলেন যে মব বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু এখন আমরা আরও মব দেখতে পাচ্ছি। এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা সরকারদলীয় লোকজনের সেখানে সম্পৃক্ততা দেখছি। সরকার যে শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, এদেশের মানুষের নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে তা নয়; সরকার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে।