Image description

কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী উপজেলা ভূরুঙ্গামারী থেকে বিভাগীয় শহর রংপুরে সরাসরি মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ করার প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ।

বাস সার্ভিস বন্ধ থাকা এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির নামে সড়ক অবরোধ– উভয় সিদ্ধান্তে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে, রংপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজন এবং ঈদফেরত যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, মালিক সমিতি কিংবা আন্দোলনকারী কোনও পক্ষের সিদ্ধান্তই যৌক্তিক নয়। তাদের সিদ্ধান্তে মূলত ঈদফেরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতির দাবি, বাস চালাতে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির কোনও আপত্তি নেই। রংপুরের বাস মালিকরা ব্যবসায়িকভাবে লোকসানের সম্মুখীন হওয়ায় তারাই ভূরুঙ্গামারী রুটে গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিবন্ধকতা মূলত রংপুর থেকে। কুড়িগ্রাম মালিক সমিতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রংপুরের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ভূরুঙ্গামারী থেকে সরাসরি রংপুর মেইল বাস সার্ভিস চালু হয়। কিন্তু কোনও ‘কারণ ছাড়াই’ কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি সোমবার (১ জুন) থেকে মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে দুই দিন আগে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। কিন্তু তারপরও সোমবার থেকে মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ করা হয়। মোটর মালিক সমিতির এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকসু নেতা আসিফ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে স্থানীয় জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা অবিলম্বে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানান। অন্যথায় ভূরুঙ্গামারীতে কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতির কোনও বাস প্রবেশ না করতে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।

 

এদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের সমর্থনে যান চলাচল বন্ধ রাখে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতি। সকাল থেকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ভূরুঙ্গামারী থেকে কুড়িগ্রামের মালিকানাধীন দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। চরম ভোগান্তিতে পড়েন ওইসব বাসের ঈদফেরত যাত্রীরা। কাউন্টারগুলো যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আহ্বানে কর্মসূচি স্থগিত করে বিকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মোটরমালিক সমিতি এবং আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চলতি সপ্তাহ সময় নেয় কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতি। তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বাস সার্ভিস চালু না হলে ফের অবরোধ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ডাকসু নেতা আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা সরাসরি রংপুর মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ না করে চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি তা বন্ধ করেছে। প্রশাসনসহ কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তারা (মালিক সমিতি) চলতি সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। তবে আমাদের ন‍্যায‍্য দাবি আদায় না হলে ফের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘রংপুর-কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী বাস সার্ভিস মূলত আমাদের একটি পরীক্ষামূলক সার্ভিস ছিল। মূলত রংপুর মালিক পক্ষ এই রুটে বাস চালাতে আগ্রহী নন। ভৌগলিক অবস্থান এবং বাস সার্ভিসের নির্ধারিত টাইম শিডিউল অনুযায়ী গত কয়েক মাসে রংপুর বাস মালিক পক্ষ লাগাতার লোকসানের শিকার হয়েছেন। তারা সকালে রংপুর থেকে ভূরুঙ্গামারীর যাত্রী পান না। আবার বিকালে ফেরত পথে রংপুরের যাত্রী পান না। ফলে বাস সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমাদের একক পক্ষের কোনও সিদ্ধান্ত নয়। আজ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনে বৈঠক হয়েছে। সব পক্ষের আলোচনায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য রংপুর মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা সার্ভিস চালু করতে আন্তরিক। তবে ব্যবসায়িক দিকও বিবেচনায় নিতে হবে।’

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষের মুহূর্তে মালিক সমিতির বাস সার্ভিস বন্ধ রাখা এবং আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূটি কোনোটাই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছি। প্রয়োজনে আবারও আলোচনায় বসা হবে। তবে কোনোভাবে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।’