লেবাননে চলমান হামলা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইসরাইল মূলত পরোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দর আল এতাইবির মতে, ইসরাইল ভালো করেই জানে যে ইরানকে সরাসরি স্পর্শ না করে আঘাত করার এবং দেশটির রক্তক্ষরণ ঘটানোর সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হলো লেবানন।
এই হামলার পেছনে ইসরাইলের বহুমুখী কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে বলে এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন। চলমান পরিস্থিতির বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিণতির প্রতিটিই ইসরাইলের অনুকূলে যেতে পারে। প্রথমত, যদি কোনো আলোচনা বা সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ইসরাইল পুনরায় পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাবে, যা তাদের মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, লেবাননকে যদি এমন এক চরম সংকটে ঠেলে দেওয়া যায় যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে, তবে তা ইসরাইলের জন্য আরও বেশি সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে। আর যদি এই সবকিছুর কোনোটিই না ঘটে, তবে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বসতি সম্প্রসারণের দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের ওপর পূর্বে আরোপিত ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখাগুলো পুনর্বিবেচনা করেছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এখন বুঝতে পেরেছে যে লেবাননে ইসরাইলি হামলা মূলত ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
অধ্যাপক আল এতাইবি আরও সতর্ক করেছেন যে এই ক্রমাগত বিমান হামলা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ তেহরানকে এক কঠিন উভয়সংকটে ফেলবে। এর ফলে ইরান হয়তো পুনরায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে, যার পুরো দায় তাদের ওপর বর্তাবে। অথবা এই চাপের মুখে ইরান-লেবানন অক্ষ বা জোট ভেঙে যাবে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতিটি ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রকল্প এবং তাদের প্রক্সি বা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি বিরাট ধাক্কা হবে।