প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা তিনি মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
সোমবার (১ জুন) বিকাল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঝালকাঠি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কৃষিকে উৎপাদনমুখী করতে তিনি খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি গ্রামবাংলার মানুষকে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করতেন। তার প্রচেষ্টায় দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন দ্বার উন্মোচন করেছিলেন শহীদ জিয়া। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা হবে আত্মনির্ভরশীল, উৎপাদনমুখী এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মর্যাদাসম্পন্ন।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নতুন প্রজন্মের আরও গবেষণা করা প্রয়োজন। তার জীবন, কর্ম ও রাষ্ট্রচিন্তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তার অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শহীদ জিয়ার ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি গুম খুনের প্রতিশোধ নিবেন দেশের উন্নয়ন করে। তিনি বারবার বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। দেশে ফিরে তিনি বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান, উই হ্যাভ এ প্ল্যান।’ এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম, ত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার দেশের মানুষের কাছে অনুকরণীয়। বিএনপি বিশ্বাস করে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করাই রাজনৈতিক দলের প্রকৃত দায়িত্ব। ইতোমধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এনামুল হক এলিন সরদার বক্তব্য দেন।
পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।