Image description

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় মাগরিবের নামাজের সময় উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের সাবেক ইমামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি রড দিয়ে আঘাত করে তার ডান চোখ ও মাথায় গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

 

আহত শিক্ষক হলেন পুখুরিয়া হুদা মহিউসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক এবং স্থানীয় মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা ইউসুফ আলী। এ ঘটনায় স্থানীয় সাইফুর রহমান ঢালীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় গফরগাঁওয়ের পুখুরিয়া এলাকায় একটি মেলা উপলক্ষে মাইকে উচ্চ স্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। ওই সময় মাগরিবের নামাজ চলাকালে শব্দের কারণে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত ঘটছিল। নামাজ শেষে বাইরে এসে মাওলানা ইউসুফ আলী গান বন্ধ না করে অন্তত শব্দ কমিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্ত সাইফুর রহমান পাশের একটি দোকান থেকে লোহার রড এনে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমি শুধু বলেছিলাম নামাজ শেষ হলে গান বাজাতে, তবে আস্তে। উচ্চ স্বরে গান বাজালে মুসল্লিদের নামাজে সমস্যা হয়। এ কথা বলার পরই সাইফুর রহমান রড দিয়ে আমার চোখে আঘাত করে। পরে মাথায়ও আঘাত করে। একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।’

তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারী তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করেছে। বর্তমানে তিনি ডান চোখে দেখতে পাচ্ছেন না বলেও জানান।

আহতের ছোট ভাই ইউনুস আলী বলেন, ‘আমার বড় ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার চার সন্তান রয়েছে। চোখে স্থায়ী ক্ষতি হলে পুরো পরিবার চরম সংকটে পড়বে। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী হুরমুজ আলী বলেন, ‘মাওলানা ইউসুফ আলী একজন সম্মানিত শিক্ষক ও ভালো মানুষ। তুচ্ছ ঘটনায় তার ওপর এমন নৃশংস হামলায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. ফয়সাল কাদের শাহ চৌধুরী বলেন, রডের আঘাতে রোগীর চোখে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’