Image description
হাসনাত আব্দুল্লাহ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার করা অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ব্যক্তি হিসেবে তাদের সঙ্গে ওই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট অর্থ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি; বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।

এর আগে মো. মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘কুমিল্লার প্রশাসক বিএনপির একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বললেন, হাসনাত-আসিফ জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাত থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমি নাকি ১০ কোটি টাকা নিয়েছি। বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। কিন্তু তার বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রথমত, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’

অভিযোগের দ্বিতীয় অংশের জবাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, প্রশাসক বলেছেন অর্থটি উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, হয়তো সাংবাদিক তার বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেছেন, ‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেছেন, জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।