Image description

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় ছাত্রদলের এক নেতার বাবাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো ও তার দোকানে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। হামলা ও ভাঙচুরের সময় যুবদল নেতার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারাও অংশ নেন বলে জানা গেছে। আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সবুজ বেপারী। আর উত্তর জেলা ছাত্রদলের অধীনস্থ কাউয়াদি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক নাইমুর রহমান মামুনের বাবা জসিম উদ্দিনকে কুপিয়ে তার দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে।

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কারণে দৌলতপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়াদি ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান মামুন ও দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন প্রধান। বিকাল ৫টার পর বাগ্‌বিতণ্ডা জের ধরে ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ হয়ে মামুনের দোকানে ভাঙচুর ও তার বাবাকে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সবুজ বেপারিসহ ছাত্রলীগ ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। 

এ সংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজ এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন নেতাকর্মী হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মামুনের বাবার দোকানের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। এ সময় নেতাকর্মীদের পেছন থেকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন যুবদল নেতা সবুজ। 

পরে আহত জসিম উদ্দিনকে নায়েরগাঁও বাজার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণের পরামর্শ দেন। রাত ৯টার পর এ প্রতিবেদন লেখার সময় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবার। 

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা নাইমুর রহমান মামুন জানান, ছাত্রলীগের সভাপতির পক্ষে এসে আমার বাবার ওপর হামলা চালায় দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী সবুজ বেপারি। পাশাপাশি তারা আমাদের দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। আমার বাবার অবস্থা এখন সংকটজনক। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে সবুজ বেপারি বলেন, এটা কোন মামুন? আমি হামলা করিনি বরং মামুনের বাবা আমার বাড়িতে হামলা করেছে।

হামলার ছবি ও ফুটেজ দিতে বললে সবুজ বেপারি বলেন, আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না, গৌরিপুর ছিলাম। 

দৌলতপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়৷ 

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ কবির বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। যারা এখানে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যতটুকু সম্ভব সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।