Image description

নির্মাণাধীন পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ঠিকাদারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৯ মে দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন, পাবনা পৌর সদরের সাধুপাড়া ঝুটপট্টি এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে কিলার মাসুদ (৩৫), একই এলাকার মৃত রুস্তম আলির ছেলে সজল আলি (৩২) ও মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে নকশাল ইসমাইল (৩৫)।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রেজিনূর রহমান।

তিনি জানান, হেমায়েতপুরে আড়াইশ' কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি কাজের সাইটে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার রফিজ উদ্দিনের কাছে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৯ মে দুপুর একটার দিকে অভিযুক্তরা তাদের আরো সহযোগীদের নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় তাদের বাধা দিলে নিরাপত্তা কর্মী হাবিবুর ও ইমরানকে বেধড়ক পেটায় চাঁদাবাজরা। এসময় অফিসের ড্রয়ারে থাকা এক লাখ টাকা নিয়ে অফিসের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশনের পাবনা অফিসের ম্যানেজার রকিবুর রহমান বাদি হয়ে ২০ মে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩৪। মামলায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। 

পরে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান আরো জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।