রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ, রাজপথে নেমেছে মানুষ। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে—এ ধরনের ঘটনার পরপর দেশজুড়ে যে তীব্র গণঅসন্তোষ আর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে, সময়ের স্রোতে তা একসময় স্তিমিত হয়ে যায়। কিন্তু হারিয়ে যায় না সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ আর আজীবন বয়ে বেড়ানো অন্তহীন শোক। রামিসার বাবা যেমন দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়োজোর ১৫ দিন চলবে। এরপর নতুন কোনো ঘটনা আসবে।’ রামিসার বাবার এই খেদোক্তি যেন দেশের ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রকৃত চিত্রই তুলে ধরেছে। কঠোর আইন আর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির সরকারি আশ্বাসের আড়ালে, বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে ঝুলে থাকে এমন শত শত আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার। ফলে জনমানুষের সাময়িক ক্ষোভ কিংবা পরিবারের আজীবন কান্না—কোনো কিছুই ভাঙতে পারে না বিচারের এই অনন্ত দীর্ঘসূত্রতার দেয়াল।
বিভিন্ন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আইন থাকলেও প্রয়োগ না হওয়ায় রামিসার মতো দেশে আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলোর বিচার ঝুলে আছে বছরের পর বছর। এর মধ্যে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করা মাগুরার ৮ বছরের শিশু আছিয়া খাতুন ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার এখনো উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। ১০ বছরেও মেলেনি কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রতিবেদন। কিংবা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিশু জান্নাতুল নাইম ইরা ও বান্দরবানের থানচির চিংমা খিয়াংকে ধর্ষণ ও হত্যার পর বছর পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন মেলেনি। এসব ঘটনার পর তাৎক্ষণিক দেশে আলোড়ন উঠলেও দীর্ঘ সময়েও শেষ হচ্ছে না বিচার।
মাগুরার শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ-হত্যার পর সংশোধিত সর্বশেষ আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ মামলায় অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস পার হয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণের মামলার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হলেও বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সম্প্রতি চলতি বছরের ধর্ষণ-ধর্ষণচেষ্টা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে দেশে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৭ জনের ক্ষেত্রে, যার মধ্যে ১২ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের পর লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছে দুই শিশু। উচ্চ আদালতের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল ১৫ হাজার ৪৬৯টি মামলা। পাঁচ বছরের অধিক সময় বিচারাধীন ছিল ৩ হাজার ৯১টি মামলা। যেখানে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের মামলার বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে।
আছিয়ার মামলা ঝুলছে আপিলে: ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের আছিয়া খাতুন। অচেতন অবস্থায় ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসা চলাকালে আট দিনের মাথায় মারা যায় শিশুটি। শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে মানুষ ক্ষোভ জানিয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের বিচারের সময়সীমা অর্ধেক কমিয়ে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান করে। সেই সংশোধিত আইনে আছিয়া হত্যাকাণ্ডের দুই মাস ১১ দিন পর ২০২৫ সালে ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে বিচারিক আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় হওয়ার পর এক বছর পার হলেও এখনো রায় কার্যকর হয়নি। আসামির পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। মামলাটি এখনো আপিল বিভাগে বিচারাধীন। সর্বশেষ গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বছর পেরোলেও রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন। তিনি বলেন, ‘রায়ের এক বছর হয়ে গেল। আমি মেয়ের হত্যার বিচারের অপেক্ষায় আছি। এখনো আসামির ফাঁসি হলো না। বিচার আটকে আছে। কবে বিচার পাব, সেটাও জানি না। তার (হিটু শেখ) দুই ছেলে তো খালাস পেয়ে গেছে। আমার মনে হয় আরও দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে।’ আয়েশা খাতুন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘আমার আছিয়া মারা যাওয়ার পর অনেকে আসছিল, প্রতিশ্রুতি দিছিল। কিন্তু আমরা এখন কেমন আছি, কেউ আর খোঁজ নেয় না। আসামি জেলে তো ভালোই আছে। সরকার তাকে খাওয়াচ্ছে। আমরা না খেয়ে থাকি সমস্যা নাই।’
১০ বছরেও মেলেনি তনু ধর্ষণ-হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন: ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাসের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সকালে তনু ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় পড়াতে গিয়েছিলেন। রাতেও তনু বাড়ি না ফেরায় তার পরিবার খুঁজতে শুরু করে। ওইদিন রাত ১০টার দিকে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপঝাড়ে তনুর মরদেহ খুঁজে পান বাবা ইয়ার হোসেন। মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পরদিন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তিনি। সে সময় সিআইডির তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে সেই নমুনা আর সন্দেহভাজন কারও ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে (ক্রস-ম্যাচ) দেখা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর চলতি বছরের ৬ এপ্রিল এই মামলায় তিন সন্দেহভাজন—সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখে তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরই হঠাৎ করে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখতে আদালতের অনুমতি নেয় পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানকে রিমান্ডে নেওয়া হলে দেশজুড়ে আবার আলোচনায় আসে তনু হত্যা মামলা।
তবে অন্য দুই সন্দেহভাজন এখনো পলাতক। জানা যায়, তাদের একজন সাবেক সেনাসদস্য শাহিনুল আলম দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালিয়েছেন। অন্যজন সার্জেন্ট জাহিদ দেশেই পলাতক। তাকে খুঁজছে পিবিআই। তাদের গ্রেপ্তারের পর ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে। এদিকে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করতে পেরে ১০ বছরে ৮১ বার তারিখ পেছানো হয়েছে। এ ছাড়া ৪টি সংস্থার ৭ কর্মকর্তা তদন্তের দায়িত্ব নিলেও এখনো চার্জশিট দিতে পারেননি।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘র্যাবের তৎকালীন কর্নেল জিয়া এই মামলার প্রমাণ গোপনে ধ্বংস করেছিলেন। সিআইডি মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের হয়রানির পাশাপাশি তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। এভাবে এতদিন কালক্ষেপণ করেছে তদন্তের নামে। যাদের নাম আমি বারবার বলেছি, সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা কাউকেই সামনে আনেননি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করেননি। সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক জাহিদের কথা বলেছি। অন্তত তাদের নমুনা সংগ্রহ করতে পারত। তারা তা করেনি। আরও অনেকের নাম বলেছি, সেগুলোও সন্দেহের তালিকায় আনা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘১০ বছর হয়ে গেল, মেয়ে হত্যার বিচার পেলাম না। এখনো মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। মেয়ে হত্যার দ্রুত বিচার চাই।’
আসামির স্বীকারোক্তি মিললেও শেষ হয়নি ইরা হত্যার তদন্ত: চলতি বছরের ১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাশে জান্নাতুল নাইমা ইরা নামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে প্রতিবেশী বাবু শেখ (৫০)। শিশুটির চিৎকারে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে বাবু। এরপর মৃত ভেবে শিশুটিকে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যায় বাবু শেখ। পরে শিশুটি গলাকাটা অবস্থাতেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে থাকা চন্দ্রনাথ মন্দির সড়কে উঠে আসে। সেখানে সড়কটিতে সংস্কারকাজে থাকা শ্রমিকরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। দুদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করলে পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। ঘটনার তিন দিন পর চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়কের একটি সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে ৩ মার্চ সকালে প্রতিবেশী বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বাবু শেখ। এদিকে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার আইন থাকলেও এখনো এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি।
বছর পেরোলেও জমা পড়েনি চিংমা হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন: ২০২৫ সালের ৫ মে বান্দরবানের থানচির তিন্দু ইউনিয়নের মংখ্যং পাড়ায় জুম ক্ষেতে ধান রোপণ করতে যান চিংমা খিয়াং নামে এক নারী। সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খুঁজতে গিয়ে তার মরদেহ পান। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, রাস্তার কাজে নিয়োজিত তিনজন বাঙালি শ্রমিক তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। পরদিন নিহতের স্বামী সুমন খিয়াং বাদী হয়ে থানচি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেন। এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার নিষ্পত্তির জন্য মানববন্ধন করে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা। এ ছাড়া ৪৭৫ জন মানবাধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিক বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন। তবে ঘটনার এক বছর পার হলেও এখনো মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। এক্ষেত্রেও মানা হয়নি ৩০ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত ও তিন মাসের মধ্যে ধর্ষণের বিচার নিষ্পত্তির বিধান।
আইনজ্ঞরা যা বলছেন: বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘শুধু আইন সংশোধন করেই ধর্ষণ কমানো যাবে না। আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হতে হবে। অপরাধীদের সাজা দৃশ্যমান হতে হবে। তাহলেই সমাজে এ অপরাধের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যথায় এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘দেশে যে পরিমাণ ধর্ষণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতে দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় এখনই আরও ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। এ ছাড়া ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার মতো ন্যক্কারজনক অপরাধ কমাতে হলে সুস্থ বিনোদন কেন্দ্র বৃদ্ধিসহ দেশে পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।’
আছিয়াসহ বিভিন্ন ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলা উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আসামিপক্ষও আপিল করতে পারে। মূলত ফাঁসির আসামিদের রেফারেন্স হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আসে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। মামলাগুলো সিরিয়ালি শুনানি হয়। ইচ্ছা করলেও কিন্তু কোনো মামলা আগে পিছে করা যায় না। তবে এমন দৃষ্টান্ত আছে অনেক সময় মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ গঠন করে দেন। আশা করছি এসব মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল বিভাগ থেকে নিষ্পত্তি হবে।
যা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা নতুন করে তালিকাভুক্ত করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অন্যতম কুমিল্লায় ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা। এ মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এরই মধ্যে আরও একজন আসামিকে শনাক্ত করা গেছে।’