Image description

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাত ৯টায় সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। রেকর্ড উৎপাদনের পরও রাত ৯টায় ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।  এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই অর্জিত হয়েছিল।

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে আবাসিক খাতে শীতলীকরণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পিক লোড বৃদ্ধি পায়।’

সূত্র জানিয়েছে, ‘১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে পাঁচ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট গ্যাস থেকে, তিন হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট জ্বালানি তেল থেকে, ছয় হাজার ৮১ মোগাওয়াট কয়লা থেকে, জলবিদ্যুৎ ১০৭ মেগাওয়াট, বায়ু বিদ্যুৎ তিন মেগাওয়াট, ভারত থেকে আমদানি ৯৪৯ মেগাওয়াট এবং আদানি থেকে এসেছে এক হাজার ৪৪৮ মেগাওয়াট।’

রাত ৯টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদিত হলেও সরবরাহ করা হয় ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। বাকি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ জনিত লোকসান হিসেবে খরচ হয়। তাই রেকর্ড উৎপাদনেও ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বড় অংশ আসে আবাসিক খাত থেকে। এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়, যা মূলত বাসা-বাড়ির ফ্যান, লাইট, এসি ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়। শিল্প খাতেও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ উল্লেখযোগ্য। মোট ব্যবহারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে শিল্প কারখানা থেকে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি), টেক্সটাইল ও ভারী শিল্প অন্যতম।

বাণিজ্যিক খাতে, যেমন মার্কেট, অফিস ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। বাকি অংশ কৃষি ও সেচ কার্যক্রম, রাস্তাঘাটের আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে বাস্তব উৎপাদন নির্ভর করে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার তারতম্যের ওপর।