বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে দাম বাড়ানো হবে কি না, এ নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এর উদ্যোগে বুধবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ঘিরে বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা যায়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) দাবি করেছে, বর্তমান দামে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে বলে তারা প্রস্তাব দেয়।
তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে জানায়, বর্তমান ব্যবস্থায় পিডিবির লোকসান ও ঘাটতি কয়েক দশ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তাদের হিসাবে ঘাটতি সামাল দিতে হলে দাম আরও অনেক বেশি, প্রায় ৭৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারের ভর্তুকি বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়।
শুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অংশীজন এই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বড় অংশের সমস্যা ব্যয় ব্যবস্থাপনা, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে তৈরি হয়েছে। এসব ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো উচিত নয়।
অংশগ্রহণকারীরা সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিলই বাড়বে না, তার প্রভাব পড়বে শিল্প উৎপাদন, কৃষি এবং পরিবহন খাতে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে। বিইআরসি জানিয়েছে, সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ যাচাই করার পরই চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণের দিকে যাবে কমিশন।