সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের আবারও পরীক্ষায় বসতে হবে। এজন্য একটি মূল্যায় পদ্ধতি ঠিক করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিক (নেপ)। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই যোগদানের সুযোগ মিলবে বলে জানা গেছে।
নেপ সূত্র জানিয়েছে, ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন মডিউল তৈরি করা হচ্ছে। এটি তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন তারা এই মডিউল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে সভা করে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্রের তথ্য বলছে, পিটিআইএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ হবে। পিটিআইএর প্রশিক্ষণ ১০ মাসের হলেও এই প্রশিক্ষণ দুই থেকে তিন মাস হবে। এরপর মূল্যায়ন হবে। মূল্যায়নের ফলাফল অনুযায়ী প্রার্থীদের যোগদানের সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে নেপের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের মূল্যায়ন দুই ধাপে হবে। একটি ধাপ প্রশিক্ষণ চলাকালীন। অর্থাৎ পিটিআইতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন পিটিআই কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যায়ন করবে। প্রশিক্ষণের শেষ দিকে অথবা প্রশিক্ষণ শেষে নেপ একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। সেই প্রশ্নের আলোকে প্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দুই ধাপের মূল্যায়ন শেষে প্রার্থীদের সামগ্রিক বিষয় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় তাদের যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহ্মদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, পরীক্ষা পদ্ধতিসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ে একটি মডিউল তৈরি করা হয়েছে। এই মডিউল মন্ত্রণালয়ে সভার পর চূড়ান্ত হবে। মডিউল চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিকের ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের যোগদানের বিষয়টি নিয়ে নেপকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যত দ্রুত সম্ভব প্রশিক্ষণ শেষ করে সহকারী শিক্ষকদের যোগদানের ব্যবস্থা করা হবে।’
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনও যোগদান করতে পারেন নি। এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।