হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি তুলেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আজ সোমবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচিতে অব্যবস্থাপনা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের ঘাটতি এবং আগাম সতর্কতা উপেক্ষা করায় দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য ও সীমা দত্তসহ অন্য নেতারা।
সমাবেশে দলটি জানায়, দেশে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪০৯ জন শিশু। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠলেও সরকার এখনো কোনো স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিদিনই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এবং অসংখ্য পরিবার সন্তান হারানোর বেদনা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিবারের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সমাবেশ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ স্থাপন এবং টিকাদান কার্যক্রমে ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।