রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় চোর সন্দেহে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বাঁশ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন। নির্যাতনের শিকার যুবক কাঁদতে-কাঁদতে বারবার কাকুতি করলেও কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম তুষার। তিনি নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে। ভিডিওতে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে একের পর এক আঘাত করতে দেখা যায়। একটি বাঁশ ভেঙে গেলে পাশ থেকে আরেকটি এনে আবার মারধর শুরু করা হয়। অসহ্য যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করে ‘মা গো’ এবং ‘ভাই, আর মারবেন না’ বলে আকুতি জানালেও নির্যাতনকারীরা থামেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজলার কড়ইতলা এলাকায় একটি বাড়ি থেকে কয়েকটি জানালার গ্রিল চুরির ঘটনার পর তুষারকে সন্দেহ করা হয়। রোববার (১০ মে) সকালে তাকে ডেকে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত কেউ কেউ পুরো দৃশ্য ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মারধরের শিকার তুষার জানান, তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন। পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে দুটি গ্রিল বিক্রি করতে বলেছিলেন। তিনি সেই গ্রিল ভাঙারির দোকানে বিক্রি করেন। পরে একই ঘটনার জের ধরে তাকে ধরে নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রেখে মারধর করা হয়। এতে তার হাত-পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছে।
এ ঘটনায় তুষারের বাবা নাজির হোসেন মতিহার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, তার ছেলে কোনো অপরাধ করে থাকলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু যেভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক।
পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় নূর আহম্মেদ হৃদয় নামে এক যুবক ও তার চাচাত ভাই মুজাহিদ ওরফে মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার করবে আইন। ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়া এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।