পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দল বিজেপির কাছে ভূমিধস পরাজয়ের পর নিজ আসন ভবানীপুরেও হারলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ ১৮তম রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮২। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। মমতার চেয়ে ১১ হাজার ৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
আরেকটি আসন নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেল। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি। যদিও নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে!’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হারতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ। সেই ফল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। পাঁচ বছর পরে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে গেলেও হাইকোর্টে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন লুট করেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশন। আমি সিও ও মনোজ আগরওয়ালের কাছেও অভিযোগ করেছি, কিন্তু তারা কিছুই করছেন না। আপনারা কি মনে করেন এটা একটা জয়? এটা একটা অনৈতিক জয়, নৈতিক জয় নয়। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে যা কিছু করেছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটা শুধু লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াব।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা গত তিনবারের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকেই বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এতে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ১৩৭টি আসনে জয় চূড়ান্ত করেছে বিজেপি। তৃণমূল ৪৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।