সড়ক-মহাসড়কের ওপর কোনো ধরনের কোরবানির গরুর হাট বা পশুর হাট করতে দেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, রেললাইনের অন্তত এমন দূরবর্তী স্থানে (হাট) নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রেললাইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা এবং পশু পারাপারের সময় যাতে রেললাইনে চলাচলে কোনো অসুবিধা না হয়। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঈদুল আজহার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দেন।
দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানি পরবর্তী যে বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। আমরা আজকেই সিদ্ধান্ত পেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী তারা সারা দেশে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মেয়রদের সঙ্গে বসবেন, জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেবেন। আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই এবং দেশবাসীকে দেখাতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালিত হবে এবং বর্জ্য পরিষ্কার হবে ১২ ঘণ্টার মধ্যে।
ঈদ ঘিরে চাঁদাবাজির বিষয়ে একজন সাংবাদিক দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়ার বিষয়ে? এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। আমরা কঠোরভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ করব, ইনশাআল্লাহ।’ তখন চামড়ার যথাযথ দাম না পাওয়া নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘পাবে এবার।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ‘অন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সড়ক-মহাসড়কের ওপর কোনো রকমের গরুর হাট বা পশুর হাট করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি পরামর্শ দেন, সিটি করপোরেশনের যদি হাট সংখ্যা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে এমন কোনো স্থানে ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সড়কের ওপর কোনো রকম ঝুঁকি সৃষ্টি না হয়, জট না হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির ঈদের সময় দেখা যায় মাদরাসা, এতিমখানা ও এই জাতীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যারা চামড়া সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে জেলা-উপজেলায়, তারা অনেক অসুবিধার মধ্যে থাকে সংরক্ষণে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন। আর আজকে যেটা সিদ্ধান্ত হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক, সবার সঙ্গে কথা বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যাতে আমরা সিরিয়াস থাকি।’
সে জন্য এখন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রচারণা ও বিনা মূল্যে লবণ সরবরাহ—এগুলো করা হবে। সে জন্য আজকে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বাজেট দিয়ে দিয়েছেন যাতে করে চামড়া নষ্ট না হয় এবং ঢাকায় সাত দিন না আসতে পারে। এটি এ জন্য যে ক্রমান্বয়ে আসলে আমাদের এখানে যে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে, তার ওপর চাপ কম পড়বে,’ যোগ করেন তিনি।
চামড়াশিল্পের কারখানার যে ধারণক্ষমতা, সেখানে যাতে চাপ না পড়ে সেজন্য পর্যায়ক্রমে চামড়াগুলো আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।