Image description

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন। এতে বিরোধী দলের সদস্যরাও থাকছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের সাত সদস্য ও স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দল থেকে পাঁচ সদস্য থাকবেন এই কমিটিতে।

 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যাহ্নবিরতির পর জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, তারা সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি করার বিষয়ে ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছেন। এতে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর সাতজন হলেন বিএনপির সংসদ সদস্য।

 

তবে এই কমিটিতে বিরোধী দল এখনই নাম দিচ্ছে না। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এই প্রস্তাবের বিষয়ে নিজেরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন পরে।

 

 

বিরোধী দল নাম দিলে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদ সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চান বলে জানান আইনমন্ত্রী।

 

তিনি জানান, শতাংশ হিসাব করলে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ আসে, সেখানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাইছেন তারা। বিরোধী দল পাঁচজনের নাম দিলে তিনি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কমিটি সম্পর্কিত প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে চান।

 

আইনমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন নিয়ে এই ১২ জনের তালিকা সরকারি দল থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে। আপনাদের অপজিশন (বিরোধী জোট) থেকে পাঁচজনের তালিকা চাচ্ছেন। সুতরাং এই ১৭ জনকে নিয়ে বিশেষ কমিটি করবেন। দয়া করে যদি আপনি আপনাদের পাঁচজনের তালিকা দেন। তাহলে ওই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।’

 

এ বিষয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের মাঝে আলোচনার বিষয় আছে। কারণ, এখানে আমাদের ধারণাগত পার্থক্য আছে। আমরা আলোচনা করে জানাব। আজকেই হয়ে যাবে, এটা হবে না। এখন মত দিতে পারব না। কারণ, আমরা চেয়েছি রিফর্ম (সংস্কার), কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গায় আমাদের আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনো এটা রয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাব ওনারা দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। কিন্তু পরে জানাব। এখনই কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’

 

এ প্রস্তাবের জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এটাতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। আমরা জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে এগিয়ে যাব। সুতরাং এ জন্য যদি আমাদের অপেক্ষা করতে হয়, পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না।’