Image description

বুধবার সকালের বৃষ্টিতে ফের তলিয়ে গেল চট্টগ্রাম নগর। যার ফলে ব্যাহত হয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে। এর ঘণ্টাখানেক পর প্রবর্তক মোড়, মেডিকেলের সামনের সড়ক, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন অংশ ও কাতালগঞ্জের কিছু অংশে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে প্রবর্তক মোড় এলাকায় সড়কের ওপর হাঁটু সমান পানি থইথই করছে। পাশের দোকানপাটের সামনে পানি জমে আছে। কোনো কোনো দোকানের ভেতরেও ঢুকে গেছে পানি। শাটার আধখোলা রেখে মালিকরা দাঁড়িয়ে দেখছেন অসহায়ভাবে। কিছু কিছু রিকশা পানি মাড়িয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেল, শুধু প্রবর্তক মোড় নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে ডুবে আছে। মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জ-সর্বত্র একই চিত্র। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আরও বেশি। সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রবর্তক এলাকার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পানি ঢুকে কয়েক লাখ টাকার মাল নষ্ট হয়ে গেছে। গতকাল ও আজ সকালে মেয়র সাহেব এসেছিলেন, পানি নেমে গিয়েছিল। কিন্তু আজ দুপুরে দেখি আবার একই অবস্থা। তাহলে কী লাভ হলো?

রিকশাচালক হোসেন মিয়া বলেন, খালের সংস্কার কাজ চলার কারণে আগে থেকেই পানি জমেছিল। এখন বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে হাঁটু সমান পানি জমেছে। এখন চলাচলই কঠিন হয়ে গেছে। প্রতি বছর একই কথা। বাঁধ সরাও, পানি নামাও। কিন্তু স্থায়ী সমাধান কবে হবে? এদিকে বিকালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন লেফটেন্যান্ট মো. মহসিনুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, খালের দুপাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে (ডিওয়াটারিং) কাজ করতে হয়। গত কয়েকদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি জমে গিয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে হিজড়া খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে গত রাতে জমা হওয়া বুক সমান পানি খাল পরিষ্কার করার পর রাত দেড়টার মধ্যেই নেমে যায়।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, পুরো শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ১৬টি কুইক রিঅ্যাকশন টিম গঠন করা হয়েছে। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে জলাবদ্ধ এলাকায় পৌঁছে নালা বা খাল পরিষ্কারের কাজ করবে। এ ছাড়া বর্তমানে ২৯টি এক্সকাভেটর এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়ে বিভিন্ন খালের মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। বুধবার সকাল ৮টার মধ্যেই খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানির পথ পরিষ্কার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বন্দর নগরীর চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালের ৯ই আগস্ট একনেকে মেগা প্রকল্প অনুমোদন হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৮শে এপ্রিল সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এর অধীনে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৮,৬২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫,৬১৬ কোটি টাকা। প্রকল্প মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকল্প ব্যয় আরও ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৮,৬২৬ কোটি টাকা করা হয়। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ আর দুই মাস।