ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সংস্কার ও বিপ্লব। আমাদের অনন্তকালের যাত্রায় প্রতিটি কাজের দায়ভার রয়েছে, সেই দায়ভার নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।’
আজ শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।
ডাকসুর এ নেতা বলেছেন, ‘আমরা ভয় পাব না রক্তচক্ষুকে, ভয় পাব না ফ্যাসিবাদের পদধ্বনিকে। আমাদের দুই সহস্রাধিক শহীদের প্রতিটি রক্তবিন্দুর স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। মুসাদ্দিক ভয় পাবে না। আপনাদের মুসাদ্দিক আপনাদের নিয়েই ইনশাআল্লাহ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পতাকা বয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের শহীদদের স্বপ্নের মতো এভারেস্টের চূড়ায় বিপ্লবের পতাকা আমরা উড্ডয়ন করবই, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশের প্রতিটি ছাত্র ও জনগণের প্রতি এটাই আমার শপথ।’
তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ আমাকে যতটুকু সাহস ও সুযোগ দিয়েছেন, সেই জায়গায় গুপ্ত থেকে কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার প্রয়োজনীয়তা আমার নেই। হাসিনার রক্তচক্ষুকে আমরা ভয় পাইনি; সেই জায়গায় যে বা যারা নব্য ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করেছেন, তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়াবই। সেটা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, আমার ক্যাম্পাসের ভাইবোনদের স্বার্থে, বৃহৎভাবে বললে দেশের ভবিষ্যতের স্বার্থে।’
‘যে বা যারা আমাদের ডিহিউম্যানাইজ করার চেষ্টা করেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি- এই সমস্ত অমানবিকীকরণের প্রক্রিয়া আমরা ফ্যাসিবাদী আমলে দেখে এসেছি। আমরা কখনোই ভীত হই না, কারণ আমরা জানি ফ্যাসিবাদ স্থায়ী হয় না। ফ্যাসিবাদের প্রতিটি স্তম্ভ ভেঙে পড়ে, পড়তে বাধ্য,’ উল্লেখ করেছেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে মুসাদ্দিক বলেছেন, ‘গতকাল দেখলাম অনেকে গণহত্যার সহযোগীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়াকে মবের সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে আমি এখন পর্যন্ত কারো গায়ে হাত তুলছি বা কেউ আমার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন এরকম কোনো রেকর্ড কেউ দেখাতে পারবেন না। কিন্তু যেহেতু একটা দল ন্যারেটিভ তৈরি করতে চায়, পলিটিক্যাল একটা রেটোরিক দাঁড় করাইতে চায়; তাই এটাকে আপাতদৃষ্টিতে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, ভালো কথা; তবে মজার ব্যাপার হলো, অধিকাংশের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের বয়ানে কথা বলাটা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।’
‘সমাজ কেবল সুশীলতা দিয়ে নতুনভাবে তৈরি হয় না। নতুনভাবে গড়তে হলে ভাঙতে হয়, গড়ে তুলতে হয় প্রতিরোধ। তবে আমার একটা আক্ষেপের জায়গা আছে। আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টিই সুন্দর। আপনার দৃষ্টিতে কেউ কুৎসিত হতে পারে, তবে আল্লাহর কাছে মানুষের বাহ্যিক চেহারা বড় নয়। ন্যায় ও নীতিতে যে সুন্দর, সেই-ই প্রকৃত সুন্দর। আজকে দেখলাম আওয়ামী লীগের কিছু পেজ আমাদের সহযোদ্ধাদের নামে থ্রেড দিচ্ছে এবং তালিকা দিচ্ছে কার পরে কে? আমার প্রশ্ন, এই তালিকা তারা কাদের কাছে দিচ্ছে? ছাত্রদল নিশ্চয়ই লীগের হয়ে কাজ করে দিচ্ছে না। আমার বক্তব্য, আমার কথা, আমার স্বাধীনতা সেটা আমি বলেই যাব। এতে আমাদের মৃত্যু হলেও কিছু আসে যায় না। জুলাইয়ের পর সত্যি আমাদের মৃত্যুর ভয় নেই। আমরা যত হেনস্তার শিকার হব, ততই আমাদের প্রতিরোধের শক্তি বাড়বে,’ বলেছেন তিনি।