Image description

দায়িত্ব পালনে বিএনপি সরকার ব্যর্থ জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আপনারা না পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এর আয়োজন করে তার দল বিকেএম।

 

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূতকে পৃথিবীর সব কূটনৈতিক রেওয়াজ ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন বিজেপি নেতাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, অথচ এ দেশের সরকার কোনো শব্দ করেনি। বন্ধুরাষ্ট্র ইরান বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করে তেল দিচ্ছে, কিন্তু কূটনীতির ব্যর্থতার কারণে বারবার সেই তেলবাহী জাহাজ আটকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা না পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

 

জুলাই বিপ্লবের বাস্তবায়ন কেন জরুরি, তা উল্লেখ করে বিকেএমের আমির বলেন, জুলাইয়ের অঙ্গীকার ছিল—আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ১৯৪৭, ২০১৩ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের ভিত্তির ওপর। যারা মনে করেন, কেন বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও ইসলামপন্থিরা জুলাই বিপ্লবের পক্ষে কাফনের কাপড় বেঁধে রাজপথে নামতে চায়, আমি তাদের বলব—আমরা জুলাই বিপ্লবকে এ জন্যই বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, জুলাই বিপ্লব ১৯০৫ এর বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে ধারণ করে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে ধারণ করে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে ধারণ করে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে।

 

 

তার মতে, যারা ইসলাম ও বাংলাদেশ ভালোবাসে এবং বাংলাদেশের শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে, তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে থাকতে পারে না।

 

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের ৫০ বছরের রাজনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না।

 

বিএনপি নেতৃত্ব ও নেতাদের উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, এর সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা।

 

গণভোটের সঙ্গে গাদ্দারি করলে ইতিহাসে একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে বিএনপি পরিচিত পাবে জানিয়ে বিকেএমের আমির বলেন, বাংলাদেশে আগে তিনটি গণভোট হয়েছে, কোনো গণভোটের সঙ্গেই কেউ গাদ্দারি করেনি। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যেখানেই গণভোট হয়েছে, কোনো গণভোটের সঙ্গেই কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। যদি বিএনপি গণভোটের সঙ্গে গাদ্দারি করে, তাহলে বিএনপি বিশ্বের একমাত্র গাদ্দার দল হিসেবে পরিচিত হবে।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান নৈরাজ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে এর দায় একমাত্র সরকারকেই বহন করতে হবে।

 

সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন মামুনুল হক। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল।

 

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বিকেএমের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, শায়খুল হাদিস মাওলানা আলী উসমান, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ‌ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম,‌ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান ও বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।