Image description

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে নিশ্চিত করা হবে দ্রুত বিচার। ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে করা হবে এটি। এ আইনের আওতায় রয়েছে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতাও।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন রসালো শিরোনামে। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে চাঁদা। এই ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে সরকারের পরিকল্পনা ও আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

জবাবে মন্ত্রী জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচার ও প্রচারের হুমকি প্রদান করা গত ১০ এপ্রিল পাস হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী একটি অপরাধ।

ধারা ২৫(২) অনুযায়ী এই অপরাধে হতে পারে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে দণ্ড বেড়ে হতে পারে ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড। এ ছাড়া ভিডিওর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে ধারা ২২ অনুযায়ী ‘সাইবার স্পেসে প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য হবে, শাস্তি অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

মন্ত্রী জানান, আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষমতা রাখেন ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসিকে করা যাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ। এ ছাড়া পরোয়ানা ব্যতিরেকে জরুরি ক্ষেত্রে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তল্লাশি ও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের জন্য স্থাপন করা হবে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। ফলে দ্রুত শনাক্ত করা যাবে ভিডিওর উৎস ও ব্যক্তির পরিচয়। বিদেশে অবস্থান করে এই ধরনের অপরাধ করলে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে অপরাধীদের।

সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর কনটেন্ট রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হবে ‘সিকিউরিটি অর্কেস্ট্রেশন, অটোমেশন অ্যান্ড রেসপন্স (সোয়ার)’ এবং এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ই-ডি-আর)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি।