বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ সামাজিক আন্দোলনের কর্মী হিসেবেও সক্রিয়। নির্যাতিত নারীদের পক্ষে সোচ্চার বরাবর। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন টকশোতে সরব উপস্থিতির কারণে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবেও পেয়েছেন মনোনয়ন। সমসাময়িক রাজনীতি থেকে শুরু করে পেশাগত ব্যস্ততা—নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন এশিয়া পোস্টের আলাপন অনুষ্ঠানে। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর
এশিয়া পোস্ট: ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষকতায়। এখন টেলিভিশনের টকশো থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই সময় দিতে হচ্ছে। দুই সময়ের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য অনুভব করেন?
মারদিয়া মমতাজ: একজন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে পড়াশোনা কিংবা মতামত দেওয়ার কাজটা সবসময় করেছি। এটা নতুন কিছু না। আমি ২০১০ সাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করি। বিভিন্ন সময় মতের কারণে মানুষের প্রশংসা যেমন পেয়েছি, আবার রাজনৈতিক মত পছন্দ না হওয়ায় ব্যাশিং বা পোস্ট রিপোর্ট করে দেওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। টেলিভিশন মিডিয়ার রিচ বেশি হওয়ায় এখনকার পরিচিতিটা একটু বেশি। পাবলিক লাইফের সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই আছে। সুবিধা হলো অনেক সমস্যা নিয়ে কথা বলা যায় এবং অজানাকে জানা যায়। যেমন—নার্সদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ওয়াশরুমসহ নানা সংকটের কথা জানতে পেরেছি, যা আগে জানতাম না। এটি একটি সুযোগ, যা আমাকে রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসায় এটি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তবে প্রতিটি সম্পর্কেরই একটি লোড থাকে এবং আমি এটিকে একটি দায়িত্ব মনে করি।
এশিয়া পোস্ট: ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন নারীদের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখেন কি না?
মারদিয়া মমতাজ: গত বিশ বছর আমরা যে সোশ্যাল ও পলিটিক্যাল প্রেসারের মধ্য দিয়ে পার হয়ে এসেছি, সেখানে মূল্যবোধসম্পন্ন নারীদের জন্য আলাদা ঝুঁকি ছিল। একজন পুরুষ ধার্মিক হলেও তাকে দেখে সবসময় চেনা যায় না, কিন্তু একজন মুসলিম নারীকে তার বেশভূষা দেখেই চেনা যায়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পলিটিক্যাল বাইনারি খুব বেশি পোলারাইজড ছিল, যার প্রভাব অরাজনৈতিক ধর্মপ্রাণ নারীদের ওপরও পড়েছে। যেমন—এক মন্ত্রণালয়ের নারী কর্মকর্তাকে মাথায় কাপড় দেওয়ার কারণে তার বস হেনস্তা করেছিলেন। এ ছাড়া গ্লোবাল পোলারাইজেশনের কারণেও ইসলামের কথা বললে মানুষকে ভুল বোঝানো হয়। অথচ একটি ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিমরা অন্য যে কোনো সমাজের চেয়ে বেশি নিরাপদে ও শান্তিতে থাকতে পারে। ইসলামের কথা বলে যারা রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করতে চায়, তাদের ওপরই মূলত এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো এসে পড়ে।
এশিয়া পোস্ট: ইসলামী অনুশাসন মেনে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ কতোটা? আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলে?
মারদিয়া মমতাজ: কাউকে গণ্ডি দিয়ে আবদ্ধ করা লজিক্যাল না। নারীর জন্য উত্তম জায়গা ঘর, হাদিসের এই কথাটির প্রেক্ষাপট হলো নারীর জীবনের কিছু নির্দিষ্ট সময়, যখন তার জন্য ঘর বেশি কনভেনিয়েন্ট ও হেলদি। এর মানে এই নয় যে তাকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং জাহেলি যুগের মতো উগ্র সাজসজ্জা ছাড়া সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনে বের হতে কোনো বাধা নেই। কর্মক্ষেত্রে নারীর জন্য নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা তার অধিকার। এটি কোনো বিধিনিষেধ নয়, বরং তাকে অ্যাকোমোডেট করার একটি প্রত্যাশা। এই আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের পার্থক্যটি আমাদের বুঝতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: তুরস্ক বা মালয়েশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা কর্মক্ষেত্রে কেন পিছিয়ে?
মারদিয়া মমতাজ: ইতিহাস ও কলোনিয়ালিজমের একটি বড় প্রভাব এখানে আছে। কলোনিয়াল শাসনের উদ্দেশ্য ছিল সেবক তৈরি করা এবং সম্পদ নিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কিছু অভিন্ন সামাজিক প্র্যাকটিস আছে। যেমন—যৌতুক, যা ইসলামে নেই, কিন্তু আমরা প্রতিবেশী সংস্কৃতির প্রভাবে লালন করছি। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো আমাদের মধ্যে এমনভাবে ঢুকেছে যে আইন করেও বের করা যাচ্ছে না। ইসলামের ভালো প্র্যাকটিসগুলোতে ফিরে আসতে আমাদের পরিশ্রম করতে হবে। ব্যাধি যেমন সংক্রামক, ভালো স্বাস্থ্যের জন্য তেমন সচেতন প্রচেষ্টা লাগে।
এশিয়া পোস্ট: ৫ আগস্টের পরে রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গণের বিভিন্ন মতাদর্শের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আপনিও সামাজিক আন্দোলন কিংবা টকশোতে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। অভ্যুত্থানের পর কী সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ বেড়েছে বলে মনে করেন?
মারদিয়া মমতাজ: সাহস আগে থেকেই ছিল, তবে এখন আলোটা পড়েছে। আঠারো সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও ছাত্রীদের এবং তাদের মায়েদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমি দেখেছি। চব্বিশের আন্দোলনে একটি বড় পরিবর্তন হলো—এতদিন যারা ইসলাম পছন্দ করতেন, তাদের কথা বলতে দেওয়া হতো না। এই দুষ্ট শক্তি সরার পর মানুষ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবছে এবং মিডিয়াও তাদের কথা শুনতে চাচ্ছে। আমরা যারা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছি, তাদের কথাগুলো বলা দরকার ছিল, যেন মানুষ বুঝতে পারে ইসলাম মানেই নারীকে ঘরে আটকে রাখা নয়।
এশিয়া পোস্ট: রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ কতোটা বেড়েছে?
মারদিয়া মমতাজ: একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা ইসলাম পছন্দ করেন, তাদের রাজনৈতিক পরামর্শ বা মতামত আগে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হতো না। জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নারী উইংগুলো দীর্ঘদিন কাজ করলেও এখন তাদের সামনে থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এবারের নির্বাচনের সময় অনেক ইনফ্লুয়েন্সার বা প্রবাসীরাও নিজেদের রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশ করেছেন। এটি কেবল একটি জোয়ারের শুরু।
এশিয়া পোস্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। তাদের এ পদক্ষেপ কীভাবে দেখেন?
মারদিয়া মমতাজ: জামায়াতের ইন্টারনাল পলিসি অনুযায়ী, কেবলমাত্র আমিরের মতো শীর্ষ পদে নারীরা কনটেস্ট করেন না, তবে নায়েবে আমিরের পদমর্যাদার নারী নেতৃত্ব সেখানে আছে। অতীতে জামায়াতের পক্ষ থেকে শত শত নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার নারী প্রার্থী না দেওয়ার মূল কারণ নিরাপত্তা ও সহিংসতা। আঠারো সালের পর এবারের নির্বাচনেও নারীদের ওপর যে ধরনের শারীরিক আক্রমণ হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হওয়ায় জামায়াত সাবধানে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি কোনো নীতিগত বিরোধ নয়।
এশিয়া পোস্ট: নারী ভোটারদের ওপর সহিংসতার যে অভিযোগ তুলছেন, এতে জামায়াত কোনো বাড়তি সুবিধা পেয়েছে?
মারদিয়া মমতাজ: মানুষ ক্ষমতাকে ভয়ও পায়, আবার পছন্দও করে। যেসব জায়গায় সহিংসতা হয়েছে, সেখানে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ কম ছিল। কারণ, তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি এক নেতা বলেছিলেন, ধানের শীষে ভোট না দিলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে, অথচ তাকে কেউ নারীবিদ্বেষী বলেনি। শিক্ষিত নারীরা বুঝতে পারছেন কারা তাদের ভালো চায়। জামায়াত ২০৩১ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তারা নারীদের অংশগ্রহণের বিপক্ষে নয়। বিএনপির অনেক নারী প্রার্থীই মূলত পুরুষ রাজনীতিবিদদের বোন বা স্ত্রী হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে এসেছেন, যা প্রকৃত উইমেনহুডকে রিপ্রেজেন্ট করে না।
এশিয়া পোস্ট: নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের এমপিদের পরিবারের সদস্যরা সুযোগ পাবেন না। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী?
মারদিয়া মমতাজ: জামায়াতে উত্তরাধিকার সূত্রে পদ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এখানে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসতে হয়। এবারের সিদ্ধান্তটি মূলত একটি পরিবারের ভারসাম্য রক্ষার জন্য। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই যদি রাজনৈতিক বা সরকারি কাজে ফুলটাইম ব্যস্ত হয়ে যান, তবে পরিবারের সন্তান ও মুরুব্বিদের দেখাশোনা ব্যাহত হতে পারে। এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একটি ব্যবস্থা।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনের আগে নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে জামায়াত আমিরের একটি বক্তব্য ঘিরে বেশ সমালোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মারদিয়া মমতাজ: তার বক্তব্যকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টুইস্ট করা হয়েছে। একজন নারী তার জীবনচক্রের সবসময় সমান কর্মক্ষম থাকেন না, সন্তানের প্রয়োজনে তাকে পার্টটাইম কাজ করতে হতে পারে। করপোরেট ওয়ার্ল্ডের জিরো অর ওয়ান বাইনারির বাইরে গিয়ে জামায়াত প্রস্তাব করেছে নারীদের হাফটাইম কাজের সুযোগ এবং রাষ্ট্রের সাবসিডি প্রদানের কথা। এটি বিশ্বের অনেক দেশে প্রচলিত এবং নারীদের জন্য সহায়ক। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই প্রস্তাবটিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এশিয়া পোস্ট: মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে এখনও সমালোচনা হয়। অনেকে দলটির নাম পরিবর্তনেরও দাবি তোলেন। এসব নিয়ে আপনার নিজস্ব কোনো ভাবনা রয়েছে?
মারদিয়া মমতাজ: নাম বদলালেই কি আক্রমণ বন্ধ হবে? শিবিরের নাম পরিবর্তন না করেও তাদের ওপর জুলুম থামেনি। একাত্তর একটি জটিল ইস্যু এবং তৎকালীন অনেক সিভিলিয়ান যারা অভিযুক্ত ছিলেন, তারা পরে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করেছেন। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআরও ছিল না। নাম বদলালে বরং অভিযোগ মেনে নেওয়া হয়। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যে কাদা লেপার চেষ্টা করা হয়েছে, তার কারণে আমরা আমাদের অতীত মুছতে চাই না।
এশিয়া পোস্ট: নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জনিয়ারিংয়ের কারণে জামায়াত পরাজিত হয়েছে বলে দাবি করেন দলটির নেতাকর্মীরা। আপনিও কী তাই মনে করেন?
মারদিয়া মমতাজ: নাগরিক হিসেবে আমি দেখেছি, অনেক জায়গায় ভোটের ব্যবধান হঠাৎ পাল্টে দেওয়া হয়েছে এবং আপডেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রার্থীর আত্মীয়রা কেন্দ্রে গিয়ে অন্যায়ভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন। আমরা শুধু একটি ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার নির্বাচন চেয়েছিলাম, যেখানে বিজয়ী যেই হোক, আমরা মেনে নিতাম। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন না হওয়া মানেই মানুষের ত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করা। আমরা জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম এবং মানুষের কাছে আমাদের সক্ষমতা দেখিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: বর্তমান সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
মারদিয়া মমতাজ: ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমানের কিছু কাজ, যেমন—ঈদগাহে যাওয়া বা বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় যাওয়া প্রশংসনীয়। তবে দল হিসেবে বিএনপি সতেরো বছরের ইতিহাস ভুলে যেতে বসেছে। চব্বিশের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের পর জুলাই সনদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তারা ইগনোর করছে। এ ছাড়া সাংবিধানিক জটিলতাগুলো দূর না করে এবং শেখ হাসিনার করে যাওয়া অপরিবর্তনীয় ধারাগুলোর মধ্যেই তারা কাজ করছে। গুমবিরোধী অধ্যাদেশ বা বিচারবহির্ভূত আটকের আইনগুলোকে অবিকৃত রাখা আগামীতে আরও বিপদের সংকেত দিচ্ছে। ভোটাররা এখন অনেক সচেতন এবং এই দায়হীনতার প্রভাব অবশ্যই পড়বে।
এশিয়া পোস্ট: সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলোকে অনেকে ‘অলংকার’ বা ‘শোপিস’ বলে কটাক্ষ করেন। এর কোনো যৌক্তিকতা রয়েছে কী?
মারদিয়া মমতাজ: এটা শুধু আজ নয়। বহু আগেই মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমেই ৫০ সেট গয়না বলা হয়েছে। কারণ, নারী এমপিদের কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি এলাকা থাকে না। এভাবে কোটার মূল উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। আমাদের সিস্টেমই নারীকে নেগলেক্ট করছে। সম্প্রতি আমি নিজে সংসদে গিয়ে দেখেছি, সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের বসার জায়গাগুলো সবচেয়ে পেছনে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ সারিতে।
এশিয়া পোস্ট: জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদে গিয়ে আপনি কী কী করতে চান? কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবেন?
মারদিয়া মমতাজ: সংসদে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মতামত দেওয়ার সুযোগ কোনো এমপিরই নেই। তবে নিজের আদর্শ ও ম্যাচিউরিটি থেকে কথা বলার অনেক জায়গা থাকে। নারী অধিকারের কথা শুধু নারীরাই বলবেন এমন নয়, অনেক পুরুষ এমপিও বলেন। আমি বিশ্বাস করি, নারীরা নিগৃহীত হওয়ার মূল কারণ ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া। সুতরাং সেই নৈতিক জায়গায় মানুষকে ফিরিয়ে আনা এবং অধিকারের কথা বলা আমার স্বাভাবিক দায়িত্বের অংশ হবে।
এশিয়া পোস্ট: ধর্মীয় অনুশাসন কঠোরভাবে মেনে চলেন—এমন নারীদের অবস্থান আগামী দশ বছরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোথায় হবে বলে মনে করেন?
মারদিয়া মমতাজ: আমি চাই সিস্টেমটি সঠিকভাবে কাজ করুক। যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাই, সমান সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত হলে যে কোনো নারীই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম বা প্র্যাকটিসিং যা-ই হোন না কেন, সিস্টেম ঠিক থাকলে দেশ ও দশের জন্য কাজ করা সম্ভব।
এশিয়া পোস্ট: তরুণদের জন্য আপনার বার্তা কী?
মারদিয়া মমতাজ: রাজনীতিকে নোংরা ভেবে দূরে থাকা যাবে না, পরিবর্তনের জন্য তরুণদের কোমর বেঁধে নামতে হবে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা থাকলেও পরিবর্তনের সাহস শুধু তরুণদেরই থাকে। আমলারা এক্সিস্টিং সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছেন, তাই তরুণ রক্ত ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব না। তবে এই পথে ট্রল বা সমালোচনার মোকাবিলা করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই আসা উচিত।
এশিয়া পোস্ট: নারীদের জন্য বিশেষ কোনো বার্তা দিতে চান?
মারদিয়া মমতাজ: নারী এবং ইসলামকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার যে দুষ্টচক্র আছে, সেটি চিনতে হবে। এই দুইয়ের মাঝখানের কাঁটাতারটি সরিয়ে দিতে পারলে দেখা যাবে, ইসলাম নারীকে কতটা সম্মান করে। ইসলাম নারীর সৃজনশীলতা ও পেশার পছন্দকে সম্মান জানায়। এই দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।