এখন থেকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিবিরকে একবার নয়, বরং হাজারবার গুপ্ত পরিচয়েই পরিচিত করানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার ফেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া স্টাট্যাসে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে নাছির উদ্দীন নাছির লেখেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় শুরু থেকেই একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তব চিত্র হলো– শিবির-সমর্থিত একটি পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতেও স্পষ্ট দেখা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজের শিবির ক্যাডার তামিম ধারালো অস্ত্র হাতে হামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে। অথচ এখন তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরো ঘটনার দায় ছাত্রদলের ওপর চাপিয়ে একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও নিন্দনীয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘শিবিরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছদ্মবেশে প্রভাব বিস্তার ও গুপ্ত তৎপরতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রকাশ্যে এক রূপ আর অন্তরালে ভিন্ন কৌশল–এটি তাদের পুরোনো চরিত্র। এখন প্রশ্ন হলো, সত্য তুলে ধরে তাদের ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে অভিহিত করলে তাদের এত অস্বস্তি কেন? বাস্তবতা যতই আড়াল করার চেষ্টা হোক, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখন থেকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিবিরকে একবার নয়, বরং হাজারবার গুপ্ত পরিচয়েই পরিচিত করানো হবে।’
সবশেষে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘শিবিরের এই নৃশংস হামলায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আশ্বস্ত করছি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করবে। ঘৃণা, সংঘাত ও অশান্তি সৃষ্টিকারী এই গুপ্ত রাজনীতির হোতারা অচিরেই সচেতন শিক্ষার্থীদের রোষানলে বিলীন হবে। সংগ্রাম ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে ছাত্রদল ফিরিয়ে আনবে শান্তি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসের নতুন বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে, এদিন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে নগরীর নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের স্মরণে আঁকা গ্রাফিতিতে ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়ায়। দুপুর ১২টার দিকে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেল ৪টার দিকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সিটি কলেজ মোড় থেকে মিছিল বের করলে এবং ছাত্রদল কর্মীরা কালীবাড়ি মোড়ে অবস্থান নিলে আবার সংঘর্ষ বাধে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উভয়পক্ষকে লাঠিসোঁটা ও হেলমেট পরে অংশ নিতে দেখা যায়। ককটেল বিস্ফোরণ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। দুপক্ষই প্রতিপক্ষের হামলায় নিজেদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে। তবে আহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।