Image description

দেশে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করলেন তিনি।

দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে কর্মসূচিটি আয়োজন করে জেলা বিএনপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। কিছুটা বিরক্তির সুরে বললেন, ‘গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবে; সবকিছুতে আমি যে এগ্রি (একমত) করব, এমন কোনো কথা নেই। আমরা সেখানে কিছু কিছু বিষয়ে পোষণ করেছি দ্বিমত।’

বারবার এটি স্পষ্ট করার পরও আমরা দেখলাম, কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা শুরু করেছে নানা কথাবার্তা

প্রধানমন্ত্রী

‘সংস্কার কমিশনের আলোচনার পর জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছি, কোন কোন বিষয়ে আমরা একমত, কোন বিষয়ে দ্বিমত আছে’— কথা অব্যাহত রাখলেন তিনি।

সংস্কার কমিশনের আলোচনার পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজনে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে বিএনপি। আমাদের সঙ্গে লাইন দিয়ে সনদে গণস্বাক্ষর করেন আরও অনেকে— যোগ করলেন সরকারপ্রধান।

স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর এক এক করে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘বারবার এটি স্পষ্ট করার পরও আমরা দেখলাম, কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বলা শুরু করেছে নানা কথাবার্তা।’

যারা সংস্কার সংস্কার করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন কথা বলে, তারা কিন্তু নারীদের স্বাধীনতা-উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে না। তারা ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে যে কমিশন করা হয়েছিল, সে বিষয়েও নীরব— ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়ার দাবি করে ক্ষোভ ঝাড়লেন বিএনপিপ্রধান।

‘বিভ্রান্তকারীদের’ গুপ্ত আখ্যা দিলেন তারেক রহমান। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করেছিল, ৮৬ সালেও দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল, ৯৬ সালেও একই কাজ করে তারা। ২০০৮ সালে জারি রাখে তাদের এ কর্ম। এখন আবার বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে তারা।’

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেন সরকারপ্রধান। ‘আমাদের কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে, হবে রপ্তানিও। আমি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমাদের বিমানবন্দরে কীভাবে আসতে পারে কার্গো প্লেন, বিদেশে রপ্তানি করতে পারি উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য— এসব বিষয়েও নেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা। শুধু তাই নয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু করব দ্রুতই। সেখাবে কীভাবে কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসাসহ সব বিষয় যুক্ত করা যায়, ভাবা হচ্ছে তাও। এগুলো তখনই করতে পারব, যখন আমার হাতকে শক্তিশালী করবেন আপনারা।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার সব আসনের সংসদ সদস্য।

এর আগে জেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন, টিকাদান উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে করেন বগুড়া প্রেস ক্লাব, বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন।