প্রয়াত বিএনপি নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে স্মরণ রেখেই তার সহধর্মিণী বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে—এমনটাই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এই মনোনয়ন শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি।
শফিউল বারী বাবু ছিলেন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং রাজপথের সাহসী সৈনিক। ‘আমার নেত্রী আমার মা বন্দী হতে পারে না’—এই স্লোগানের প্রবক্তা হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশে আলোচিত হন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে তিনি আমৃত্যু রাজপথে সংগ্রাম করে গেছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন আত্মগোপনে অথবা কারাগারে; সহ্য করেছেন পুলিশি নির্যাতন ও রিমান্ড। তিনি ছিলেন দলের এক নিবেদিতপ্রাণ নেতা।
২০২০ সালে ৫১ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ বাবুর জানাজায় উপস্থিত হতে হবে—এটা আমরা কল্পনাও করিনি। বাবু শুধু স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, তিনি বিএনপির একটি প্রাণ ছিলেন। অসংখ্য নেতাকর্মী তার হাতে তৈরি হয়েছে। দলের অঙ্গসংগঠনের মধ্যে এ ধরনের ত্যাগী, মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা খুব কম আছে। বাবুকে হারিয়ে আমরা একটি অমূল্য সম্পদ হারালাম। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।’
স্বামীর মৃত্যুর পর রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন বীথিকা বিনতে হোসাইন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে স্বামী শফিউল বারী বাবুর আদর্শ ধারণ করে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর অঞ্চলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সংগঠনকে সক্রিয় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেত্রী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘অর্পণ আলোক’ নামে একটি মানবিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অসহায়, নির্যাতিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার এই সামাজিক উদ্যোগ তাকে জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব হিসেবে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
বিএনপির রাজনীতিতে শফিউল বারী বাবু ছিলেন আলোচিত ও ত্যাগী এক নেতা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কারাবরণ ও নির্যাতনের মধ্যে কাটিয়েছেন। দলের কঠিন সময়ে তার ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে এখনো অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বীথিকা বিনতে হোসাইনের মনোনয়নকে নেতাকর্মীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন, তিনি সংসদে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল এবং বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।