Image description

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার নাথপাড়া মহল্লায় বসবাসকারী এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি আদালতের ভুয়া রায়ের কথা বলে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন পেয়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের কোনো বৈধ রায় দেখাতে পারেননি।

পরে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত জমিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্ক করেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল)  দুপুরে ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী সুশীল সরকার জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি নিজ বাড়ির সামনে আট শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। হঠাৎ গত রবিবার সকালে লাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বেড়া দেন। একই সঙ্গে সেখানে থাকা টিন ও বাঁশের তৈরি লাকড়ি রাখার ঘরটি ভেঙে নিয়ে যান।

প্রতিবাদ করলে লাল মিয়া ভুক্তভোগীদের জানান, কয়েকদিন আগে তিনি আদালত থেকে ডিক্রি (রায়) পেয়েছেন।

পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন সুশীল সরকার।

 

এ বিষয়ে লাল মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি মামলায় জয়ী হওয়ার দাবি করেন। কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি ২০২৩ সালের মামলা খারিজের একটি কপি দেখান। তবে সেখানে তার পক্ষে কোনো ডিক্রি বা রায়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সব খারিজ হয়ে আমার পক্ষে আছে, এখন থেকে এই জমি আমার।

 

এদিকে জমির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি নেপাল চন্দ্র নট মোবাইল ফোনে জানান, মামলার আরজিতে একটি দলিল নম্বর ভুল থাকায় নিম্ন আদালত মামলা খারিজ করেন। পরে ভুল সংশোধন করে ময়মনসিংহ সাব-জজ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আগামী ৩ মে আপিল শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

নেপাল চন্দ্র নট অভিযোগ করেন, এই সুযোগে বিবাদী লাল মিয়া আদালতের রায় পাওয়ার ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জমিতে বেড়া দিয়েছেন।

 

নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টার সত্যতা পাওয়া গেছে। লাল মিয়াকে সেখানে না যেতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।