আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ভয় মুক্ত থেকে হাসিমুখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদি আমিন।
বিগত সময়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালে নকল বিরোধী নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনায় থাকা এহছানুল হক মিলনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টা এক টেবিলে পাশাপাশি বসে এই আহ্বান জানান।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তারা এই আহ্বান জানান।
পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কে আছে, ভয়-ভীতির মধ্যে আছে- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নো, পরীক্ষা সুন্দর হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জনবান্ধব সরকার ছাত্র ছাত্রীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ নামক শব্দটি দূর করতে চায়, সাথে সাথে অভিভাবকদেরও আশ্বস্ত করতে চাই আপনারাও সন্তানদের নিয়ে অকারণে আতঙ্কিত হবেন না।
তিনি বলেন, আমরা খুব ভালোভাবে অবহিত আছি যে এবারের এসএসসি ব্যাচ করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র উভয় বৃত্তি পরীক্ষা বঞ্চিত হয়েছে, ফলে এবারের এসএসসি পরীক্ষা তাদের জীবনের প্রথম এবং পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা।
তিনি আরও বলেন, আমরা এটাও জানি বিগত জুলাই অভ্যুত্থানে এই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে রাজপথে প্রতিবাদ মুখর থেকে, দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। তাদের এই সৃজনশীলতা পরীক্ষায় প্রতিফলিত হবে ইনশাআল্লাহ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিরাপদ পানি, আলো ও ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র যানজট মুক্ত রাখা, ছাত্রীদের চলাচল শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, পরিদর্শক, ইনভিজিলেটরদের দায়িত্ব হবে পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করা। অকারণে আতঙ্ক সৃষ্টি নয়।
‘প্রশ্নপত্রের কোন অংশে দুর্বোধ্যতা থাকলে সেটা নিরসনে সহায়তা করবেন। কারণ, এবারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিগত সরকারের সময়ে প্রণীত হওয়ায়, এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদানের সুযোগ আমাদের ছিল না। পরীক্ষা পত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়, কোন পরীক্ষার্থী যেন তার প্রাপ্য মূল্যায়ন থেকে সামান্যতম বঞ্চিত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই পরীক্ষার্থীরা বিনা টেনশনে হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উত্তরপত্রে লিখবে এবং হাসিমুখে পরীক্ষা কেন্দ্র ত্যাগ করবে’।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে গড়ে তুলতে চাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্মৃতি যেন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতি হয় আর পরীক্ষা ভীতি শব্দটি যেন জাদুঘরে স্থান পায় এমন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।