বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি বক্তব্য সংবলিত ফটোকার্ড। এতে দাবি করা হচ্ছে, - ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাওয়ার নয়; বরং ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে আসবে।’ তবে অনুসন্ধানে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে উল্লিখিত বক্তব্যটি প্রচার করা হচ্ছে। ‘দৈনিক আমাদের খবর’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টায় করা একটি পোস্টকে এই দাবির প্রথম উৎস হিসেবে শনাক্ত করা গেছে।
ফটোকার্ডটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনারও সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টিকে সত্য ধরে নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে কোনো গণমাধ্যমে মাশরাফির এমন বক্তব্যের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, তার ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতেও এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে 'আগামীর সময়ের'অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৮ এপ্রিল ‘Daily Ajker Kantho’ নামের একটি ফেসবুক পেজে “আওয়ামী লীগ হারিয়ে যাওয়ার নয়, ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরবে: ড. কার্জন” শিরোনামে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়।
ওই পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি রাজনৈতিক দলকে আইন করে বিলুপ্ত করা সম্ভব নয়; বরং রাজনৈতিক চাপের মুখে দলটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে।
পোস্টটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাংবিধানিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে এবং ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়, মূলত এই বক্তব্যটিই পরবর্তীতে মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি অনুষ্ঠান থেকে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্না, অধ্যাপক কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ নভেম্বর অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের জামিন দেন হাইকোর্ট।
মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে প্রচারিত ‘আওয়ামী লীগ ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরবে’- এমন বক্তব্যটি সঠিক নয়। এটি মূলত ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের একটি মন্তব্য, যা ভুলভাবে মাশরাফির নামে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।